
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রকে ঘিরে অপহরণ, চাঁদাবাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে প্রকাশিত তিন পর্বের ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন জেলাজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। প্রতিটি পর্বে উঠে এসেছে নতুন নতুন অভিযোগ ও তথ্য, যা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।ভুক্তভোগী মোঃ শাহাদাত শেখ, গ্রাম: পশ্চিমকান্দি, ইউনিয়ন: কলাবাড়ী, উপজেলা: কোটালীপাড়া, জেলা: গোপালগঞ্জ—অভিযোগ করেন, তাকে অপহরণসদৃশ পরিস্থিতিতে আটকে রেখে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। পরবর্তীতে জোরপূর্বক মোট ৫ লক্ষ টাকা আদায় করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
তার আরও অভিযোগ, নগদ অর্থের পাশাপাশি তার কাছ থেকে একটি সোনার চেন ও একটি স্বর্ণের আংটিও নিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় বুধহাটা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই হাসান ও কনস্টেবল আসাদ জড়িত ছিলেন। এছাড়া স্থানীয় বিকাশের দোকানদার সোহাগ, ইজাজ নামও উল্লেখ করেছেন।
তিন পর্বের অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, এ ধরনের অভিযোগ শুধু একজনের নয়—আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী নীরবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। যদিও নিরাপত্তার কারণে তারা প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চাননি।প্রতিবেদন প্রকাশের পর ঘটনাটি সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ প্রশাসনের নজরে আসে। জেলা পুলিশ সুপার আরফিন জুয়েল বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা কর্মকর্তা আইনের ঊর্ধ্বে নন। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, তিন পর্বের ধারাবাহিক অনুসন্ধানের মাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় এখন প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্তই পারে সত্য উদঘাটন করতে এবং সাধারণ মানুষের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে।