সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:সাতক্ষীরার শ্যামনগরে পরিচালিত ‘প্রেরণা’ নামের একটি এনজিওকে ঘিরে নানা অভিযোগের পর এবার নতুন করে আলোচনায় এসেছেন শম্পা গোস্বামী। এনজিওটির কার্যক্রম, অফিস পরিচালনা এবং বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ ও বিতর্ক চলে আসছে। এরই মধ্যে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা, অর্থ পাচার এবং দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।ভারত ও বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ, সাংবাদিকদের হাতে পরিচয়পত্রশম্পা গোস্বামী ভারত ও বাংলাদেশের দুই দেশের নাগরিক তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। শম্পা গোস্বামী ,ভারতীয় পরিচয়পত্রসহ সংশ্লিষ্ট কিছু নথি ও তথ্যপ্রমাণ সাংবাদিকদের হাতে রয়েছে। এসব নথির মাধ্যমে তার ভারতীয় পরিচয় ও নাগরিকত্বের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যাবে ।
একজন ব্যক্তি কীভাবে দুই দেশের নাগরিকত্ব বা পরিচয়পত্র ব্যবহার করছেন, তার আইনগত ভিত্তি কী—এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে।কোটি টাকা পাচার ও সংবাদ ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ
শম্পা গোস্বামীকে ঘিরে অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে একাধিক পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব সংবাদ প্রকাশের পর সেগুলোর প্রভাব কমানো এবং বিতর্কিত কর্মকাণ্ড আড়াল করতে বিভিন্ন মহলে অর্থ ব্যয়ের চেষ্টা চলছে।এমনকি কোটি টাকার বিনিময়ে সংবাদ ও অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার একটি মিশন পরিচালিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। কথিত এ মিশনে কারা অর্থায়ন করছেন, কারা মধ্যস্থতা করছেন এবং কারা সংবাদ প্রকাশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ প্রকাশের উদ্যোগ নিচ্ছেন—তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
বিমানবন্দর থেকে ফেরত, এরপর নতুন তৎপরতার অভিযোগ
এর আগে বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশের পর বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন শম্পা গোস্বামী বলে অভিযোগ রয়েছে। বিদেশযাত্রার সময় বিমানবন্দর থেকে তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও আলোচনায় আসে। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা ও অন্যান্য আইনি জটিলতার বিষয় সামনে আসে।
উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর আবারও নতুন করে তৎপরতা শুরু করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদগুলোর প্রতিবাদ এবং বিভিন্ন মহলে যোগাযোগের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিজেদের অনুকূলে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।আলোচনায় অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদের নাম এ ঘটনায় আলোচনায় উঠে এসেছে সাতক্ষীরার সাবেক আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য লায়লা পারভীনের স্বামী অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদের নাম তিনি শম্পা গোস্বামীর হয়ে বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন তার বিনিময়ে তিনি টাকাও পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছেন । তিনি একটি সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত দৈনিক পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবেও পরিচিত।অভিযোগ রয়েছে, শম্পা গোস্বামীকে ঘিরে প্রকাশিত সংবাদগুলোর প্রতিবাদ বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে বিপুল অর্থ ব্যয়ের অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অর্থের উৎস, লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদের কাছে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই।’অন্যদিকে, শম্পা গোস্বামীর বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।যেসব প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন প্রেরণা এনজিওর কার্যক্রম নিয়ে ওঠা অভিযোগের প্রকৃত অবস্থা কী? শম্পা গোস্বামীর ভারতীয় পরিচয়পত্রের আইনগত ভিত্তি কী? অর্থ পাচারের অভিযোগের সঙ্গে কারা জড়িত? তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদ ও অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার জন্য সত্যিই কোনো অর্থের লেনদেন হয়েছে কি না? এসব প্রশ্ন এখন আলোচনায়।শম্পা গোস্বামীকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ, কথিত কোটি টাকার মিশন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।