
নিজস্ব প্রতিবেদক, তালা:সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ফতেপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইস্টম কুমার দাশের বিরুদ্ধে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৬ লাখ ১৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যক্তি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তালা উপজেলার হরিনগর এলাকার বাসিন্দা আনান মোহন দাসের স্ত্রীকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেন ইস্টম কুমার দাশ। চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে মোট ৬ লাখ ১৫ হাজার টাকা গ্রহণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৬ মে প্রথম দফায় ৩ লাখ টাকা, ২০২০ সালের ২৭ মে দ্বিতীয় দফায় ২ লাখ টাকা এবং ২০২২ সালের ১৬ মে তৃতীয় দফায় ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। এছাড়া অভিযুক্ত শিক্ষক চাকরির প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সাদা চেক, নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প এবং মূল সনদপত্র গ্রহণ করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।ভুক্তভোগী আনান মোহন দাস অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় পার হলেও চাকরি না হওয়ায় তিনি টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক নানা টালবাহানা করতে থাকেন। একপর্যায়ে তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।এ ঘটনায় তালা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগগুলোর তদন্ত কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।এ বিষয়ে তালা উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার সন্তোষ কুমার পাল বলেন, “বিষয়টি আমি অবগত আছি। তার বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তিনটি অভিযোগ ইতোমধ্যে চলমান রয়েছে। অভিযোগগুলো তদন্তাধীন রয়েছে।”অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক ইস্টম কুমার দাশের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তবে অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।