
আশাশুনি (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরা আশাশুনি বুধহাটা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র–এ দায়িত্বরত দুই পুলিশ কর্মকর্তার সহযোগিতায় অপহরণ ও পাঁচ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গোপালগঞ্জ জেলার শাহাবাজ শেখ নামের এক যুবকের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে সাতক্ষীরা জেলা আশাশুনি থানার কুল্লা ইউনিয়নের মাদারবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা জলিল সরদারের ছেলে রিপন ওরফে কালুর। অভিযোগ রয়েছে, রিপন ওরফে কালু এবং তার সহযোগী হবি নামে এক ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে শাহাবাজকে আশাশুনিতে নিয়ে আসেন। গত ২১/১০/২০২৫ তারিখে কৌশলে দাওয়াতের কথা বলে তাকে সাতক্ষীরা আশাশুনি কুল্লা ইউনিয়নের মাদারবাড়ী এলাকায় আনা হয়। পরদিন ২২/১০/২০২৫ তারিখে তাকে ঘরের ভেতর আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, এ ঘটনায় সহযোগিতা করেন সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি থানার অধীন বুধহাটা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই হাসান ও কনস্টেবল আসাদ। রাতেই তারা উপস্থিত হয়ে শাহাবাজের কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়।
পরে বিকাশের মাধ্যমে বিভিন্ন নম্বরে টাকা লেনদেন হয়। অনুসন্ধানে দেখা যায়, “ডিজিটাল স্টুডিও অ্যান্ড কম্পিউটার” নামে ০১৭৩৬৮০৭০৪০ নম্বরে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা পাঠানো হয়। এছাড়া করিম সুপার মার্কেট, হাই স্কুল রোডে অবস্থিত “ভাই ভাই মোবাইল শপ” (০১৯৮৫২০৪০২০) নম্বরে নগদ ও বিকাশে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে। তাছাড়া একটি নম্বরে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে বলে দেখা গেছে।
সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি থানার বুধহাটা বাজারের দোকানদারদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে “ভাই ভাই মোবাইল শপ”-এর মালিকরা কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। ভুক্তভোগী শাহাবাজ শেখ জানান, দোকান মালিকরা অপহরণের সঙ্গে জড়িত কি না—সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তবে টাকা লেনদেনের বিষয়টি ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন।
শাহাবাজ বলেন, “আমি ও আমার বন্ধু মনির বেড়াতে গিয়েছিলাম সাতক্ষীরা আশাশুনি বুধহাটা কুল্লা এলাকায়। পরিকল্পিতভাবে আমাকে ফাঁসানো হয়। নির্যাতনের মুখে আমি বাড়ি থেকে বিকাশে ৫ লাখ টাকা পাঠাতে বলি এবং একটি সোনার আংটি ও একটি সোনার চেইন দিয়ে প্রাণ নিয়ে ফিরে আসি। সব লেনদেনের তথ্যপ্রমাণ আমার কাছে আছে।”
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, তদন্ত কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআই রহিম ছুটিতে থাকায় সাময়িকভাবে দায়িত্বে ছিলেন এএসআই হাসান। এই সুযোগে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে অপরাধে জড়িয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কনস্টেবল দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থেকে বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করেছেন বলে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।এ বিষয়ে অভিযুক্ত এএসআই হাসানের কাছে জানতে চাইলে তিনি সরাসরি কোনো বক্তব্য না দিয়ে আশাশুনির একজন সিনিয়র সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলতে বলেন এবং পরবর্তীতে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। কনস্টেবল আসাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে ফোন কেটে দেন।
এ ব্যাপারে আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার আরিফিন জুয়েলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তে প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ভুক্তভোগীর কল রেকর্ড, ভিডিও বার্তাসহ সকল তথ্যপ্রমাণ সাংবাদিকদের কাছে সুরক্ষিত আছে বলে জানা গেছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।