নিজস্ব প্রতিবেদক:সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানায় দায়ের করা সাংবাদিকদের একটি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ও চার্জশিট নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। মামলার কাগজপত্রে , আলমগীর হোসেন ও গোলাম রব্বানীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্তের তথ্য থাকলেও শেষ পর্যন্ত কারা চার্জশিটভুক্ত হয়েছেন এবং কারা বাদ পড়েছেন—তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।অভিযোগ রয়েছে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আব্দুর রহমান তদন্তের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় না রেখে মাছুদ ও রবিউল ইসলামকে দায়ী দেখিয়ে প্রতিবেদন/চার্জশিট দাখিল করেছেন। একই সঙ্গে, আলমগীর হোসেন ও গোলাম রব্বানীসহ অন্যদের বাদ দেওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, অর্থের বিনিময়ে আসামি বাদ দেওয়া এবং নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের চার্জশিটভুক্ত করার মতো অনিয়ম হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এ ঘটনায় প্রায় লক্ষ টাকা ঘুষ লেনদেনের বিষয় রয়েছে। তবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগের স্বাধীন প্রমাণ প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগটি সত্যতা যাচাই করতে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।মামলার কাগজপত্রে ‘Sent Up in CS’ এবং ‘Not Sent Up in CS’—দুই ধরনের অবস্থান থাকায় তদন্তের ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে কী ধরনের সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে, কাকে কেন চার্জশিটভুক্ত করা হয়েছে এবং কাকে কী কারণে বাদ দেওয়া হয়েছে—এসব বিষয় স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। ওসির বক্তব্য অভিযোগের বিষয়ে পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমারও কিছু করার ছিল না, রহমানেরও কিছু করার ছিল না। উপরের মহলের চাপ ছিল, তাই করেছি।” তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন মহলের চাপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল বলে তিনি দাবি করেছেন।তবে ‘উপরের মহলের চাপ’ বলতে কার বা কোন মহলকে বোঝানো হয়েছে—এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্যের বিস্তারিত ব্যাখ্যা জানা যায়নি।
এসআই আব্দুর রহমানের বক্তব্যঅভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আব্দুর রহমানের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি নিয়ে সামনাসামনি কথা বলার কথা জানান। তাঁর বিস্তারিত বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।এসআই আব্দুর রহমানের পূর্ণ বক্তব্য পাওয়া গেলে অভিযোগের বিপরীতে তাঁর অবস্থান ও ব্যাখ্যাও প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
মামলার তদন্ত, চার্জশিট এবং অর্থ লেনদেনের অভিযোগ—সবকিছু নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগটির তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
প্রতিবেদন প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও অভিযোগের তথ্য যাচাই করা জরুরি।