
নিজস্ব প্রতিবেদক | সাতক্ষীরা
সাতক্ষীরার আটুলিয়া ইউনিয়নের ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) আশরাফুজ্জামানকে অবশেষে বদলি করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম এবং সরকারি জমি বন্দোবস্তের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে দৈনিক সোনার বাংলাদেশ পত্রিকায় প্রকাশিত তিন পর্বের ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রশাসন তাকে বদলি করতে বাধ্য হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন অভিযোগ প্রকাশ না করার জন্য কিছু সাংবাদিককে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেছিলেন নায়েব আশরাফুল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়গুলো জনসম্মুখে উঠে আসে।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ মার্চ সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর মো. নাভিল হোসেন তামীম স্বাক্ষরিত এক বদলি আদেশে আটুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামানকে কলারোয়া উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বদলি করা হয়েছে। একই আদেশে বাঁশদহা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা প্রতুল জোদ্দারকে আটুলিয়া ইউনিয়নে পদায়ন করা হয়েছে।অনুসন্ধানে জানা গেছে, আশরাফুজ্জামান সরকারি চাকরির পাশাপাশি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। সাতক্ষীরা শহরের প্রাণকেন্দ্রে বিলাসবহুল এলাকায় প্রায় ১ কোটি ২ লাখ টাকা মূল্যের দুইতলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও আমতলা মোড়ে আরও একটি দুইতলা বাড়ি ও দুটি দোকান কিনেছেন, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৭৫ লাখ টাকা।অভিযোগ রয়েছে, নিজের প্রকৃত আয় গোপন রাখতে তিনি শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়স্বজনের নাম ব্যবহার করে সম্পদ গড়ে তুলেছেন। শহরের সুলতানপুর এলাকায় শ্বশুরের নামে প্রায় ৫ শতক জমিতে আমবাগান কেনা হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৬০ লাখ টাকা বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে আটুলিয়া ইউনিয়নে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বলে দাবি স্থানীয়দের। নওয়াবেঁকী বাজার এলাকায় সরকারি পেরিফেরিভুক্ত জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয়রা বলছেন, শুধু বদলি নয়—তার বিরুদ্ধে ওঠা অবৈধ সম্পদ অর্জন, সরকারি জমি বন্দোবস্তে অনিয়ম এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া জরুরি।