
সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি:শ্যামনগর উপজেলা ভূমি অফিস কে ঘুষ-দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছে চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ নাজির সুকান্ত অধিকারী ।নাক ডুবিয়ে কাড়িকাড়ি টাকা খাচ্ছেন তিনি। কতিপয় দালালদের সমন্বয়ে গড়েছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র।
নাজির সুকান্ত অধিকারী এসি ল্যান্ড অফিসে যোগদানের পর থেকেই জনসাধারণের কাছ থেকে জমির নামজারি ও জমাভাগ বাবদ লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। ঊর্ধ্বতন কতৃর্পক্ষের নজরদারির অভাবে নাজির সুশান্ত অধিকারী চক্রটি এখন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, শ্যামনগর উপজেলা ভূমি অফিসের অধীন তহশিল অফিস ১১ টি । অফিসগুলো হল নকিপুর পৌর ভূমি অফিস, ঈশ্বরীপুর ভূমি অফিস, মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিস, আটুলিয়া ভূমি অফিস, পদ্মপুকুর ভূমি অফিস, কৈখালী রমজাননগর ভূমি অফিস, ভুরুলিয়া, নুরনগর, বুড়িগোয়ালিনী ও গাবুরা ইউনিয়ন ভূমি অফিস।
এসব তহশিল অফিসগুলো থেকে এসিল্যান্ড অফিসে শত শত খারিজের প্রস্তাব পাঠানো হয়। এর মধ্যে মাসে প্রায় এক হাজার নথি অনুমোদন হয়।
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দোহাই দিয়ে, অনুমোদনপ্রাপ্ত নথিগুলো থেকে নাজির সুশান্ত অধিকারী বিভিন্ন হারে ঘুষ আদায় করেন।
সেবাপ্রার্থী অনলাইনে খারিজের আবেদন করার পর এসিল্যান্ড অফিস থেকে প্রতিবেদনের জন্য সংশ্লিষ্ট তহশিল অফিসে পাঠানো হয়। সেখানে আবেদনে উল্লেখিত মোবাইল নম্বরে ফোন দিয়ে আবেদনকারীকে কাগজপত্র নিয়ে যেতে বলা হয়। আবেদনকারী ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বা উপ-সহকারী কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করলে তারা অফিসের কর্মচারী বা উমেদার নামধারী দালাল দেখিয়ে কথা বলতে বলেন।অভিযোগ উঠেছে, উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের একজন অসহায় ব্যক্তি বক্তব্যে তিনি বলেন, শ্যামনগর উপজেলাধীন জেএল নং- ৯৪, চন্ডিপুর মৌজায় এসএ খতিয়ান নং-২৫২, দাগ নং-২৪৫, ২৪৬, ডিপি-১৬ নং খতিয়ানে হাল-৪৪৩ দাগে ৫৩ শতক সম্পত্তি আমার পিতা জীবিত থাকতে প্রকৃত জমির মালিকের নিকট হতে রেজিষ্ট্রি কোবলমুলে প্রাপ্ত হয়। তারা ৪ ভাই ওয়ারেশ সূত্রে প্রাপ্ত হয়ে সরকারি রাজস্ব করাদি পরিশোধ করে চাষাবাদের মাধ্যমে শান্তিপূর্নভাবে ভোগ দখল করে আসছিল। প্রতিপক্ষ অন্যায়ভাবে জবরদখলের চেষ্টা চালায়।
এ ঘটনায় বিজ্ঞ আদালত শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে শ্যামনগর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) কে ঘটনা তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। সহকারি কমিশনার (ভূমি) নাজির সুশান্ত অধিকারীকে দায়িত্ব দেন। সুশান্ত অধিকারী প্রতিপক্ষের নিকট থেকে মোটা অংকের উৎকোচ গ্রহণ করে একতরফা প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। যা প্রতিপক্ষের সাজানো। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের জানান
শ্যামনগর পৌরসভার নকিপুর গ্রামের একজন নাম না বলার শর্তে জানান, নাজির সুশান্ত অধিকারীর আচরণ সম্পর্কে শ্যামনগরের অধিকাংশ মানুষ অবহিত।এসি ল্যান্ড অফিসে কাজ নিয়ে আসা প্রতিটি মানুষকে সে প্রতিনিয়ত হয়রানি করে, এটা নতুন কিছু নয়। তিনি জানান, আমার একটা নামজারিতে ওই ভদ্রলোক ২০ হাজার টাকা নিয়েছিলেন। ওনার ভাষ্যমতে মুহুরি সিন্ডিকেটের বাইরে, আবেদনকারি কেউই ওনার রুমে যেতে পারবে না, কারণ মুহুরিগনদের কাছ থেকে টাকা নিতে সুবিধা হয়। ওনার মতো ওই অফিসে আর কারও আচরণ এতো খারাপ নয়। অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যাবর্তন ট্রাইবুনাল ও অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যাবর্তন আপীল ট্রাইবুনাল থেকে ডিক্রি প্রাপ্ত আমার নিজের মামার নামীয় একটা সম্পত্তির নামজারি করতে গিয়ে কোন এক শুভলগ্নে, পরিচয় ঘটেছিল ভদ্রলোকের সাথে।
বিজ্ঞ আদালতের ডিক্রিপ্রাপ্ত এ সম্পত্তির নামজারি করতে গিয়ে নাজির সুকান্ত অধিকারী হয়রানি করতে থাকে দিনের পর দিন, তার টেবিলে রীতিমত ২০ হাজার টাকা দিয়ে ছাড়াতে হয়েছিল কেসটি। উনি ব্যাতিত ওই অফিসের অন্যান্য স্টাফরা অনেক আন্তরিক। তারা কাউকে অযথা হয়রানি করে না।
স্বেচ্ছাসেবক জানান,
আমাদের একটি দোকান অনুমোদন করতে যেয়ে মোটা অংকের ঘুস নিয়েছে উনাদের সুশান্ত অধিকারী ।
কালিগঞ্জ মহিলা কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক এর স্ত্রী বলেন, ভূমি অফিসের একটা কাজে আমাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করেছে প্রতিপক্ষের কাছে অনেক টাকা খেয়েছে। আমার এক দেবর গিয়েছিল কাজের জন্য তার কাছে ২০ হাজার টাকা চেয়েছে।
এ ব্যাপারে নাজির খাদ্য অধিকারের কাছে জানতে চাইলেই তিনি বলেন বারবার ফোন দিলে রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি
এ ব্যাপারে শ্যামনগর ভূমি কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি এসব বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি নই