স্টাফ করেপন্ডেন্ট,;পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে কোনো নাগরিককে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে অন্যায়ভাবে আটক বা কারাগারে রাখা হবে না। মানবাধিকার সুরক্ষা এবং সবার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। শামা ওবায়েদ বলেন, বিরোধী দল, আওয়ামী লীগ বা অন্য কোনো দলের সমর্থক—রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক না কেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কাউকে অন্যায়ভাবে কারাগারে রাখা হবে না।তিনি বলেন, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও মৌলিক অধিকারের প্রতি সরকারের অঙ্গীকার সব রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। অতীতে বাংলাদেশে নজিরবিহীন মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি চায় না।শামা ওবায়েদ বলেন, নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করা এবং বিচারব্যবস্থা যাতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার দ্বারা পরিচালিত না হয়, তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ এবং মানবাধিকার রক্ষায় কাজ করছে।পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সব দেশের সঙ্গে সম্মানজনক ও ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষাই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি হবে ‘বাংলাদেশ নীতি’—অর্থাৎ সব দেশের সঙ্গে সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রেখে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করা।তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকার থাকায় আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। চীনসহ অন্যান্য অংশীজন এখন বাংলাদেশের বক্তব্যকে আরও গুরুত্ব দিয়ে শুনছে।রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি মূলত একটি রাজনৈতিক সমস্যা এবং এর টেকসই সমাধানও রাজনৈতিকভাবেই করতে হবে। সংকট সমাধানে মিয়ানমারের বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা চলছে।তিনি জানান, আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে উচ্চপর্যায়ের একটি অধিবেশন হওয়ার কথা রয়েছে। এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। সংকট সমাধানে মুসলিম বিশ্ব মিয়ানমারের ওপর আরও চাপ প্রয়োগ করতে পারে কি না, সেটিও বাংলাদেশ বিবেচনা করছে।শামা ওবায়েদ বলেন, ২০১৭ সালের পর থেকে রোহিঙ্গা সংকট আরও জটিল হয়েছে। মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তনের পাশাপাশি রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মির উত্থান এবং মানবপাচার ও মাদক চোরাচালানসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।তিনি বলেন, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে নতুন করে মানুষ আসা এবং নিয়মিত শিশুর জন্ম অব্যাহত থাকায় বর্তমানে দেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গার সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন। তবে এ সংখ্যা ১৩ লাখের বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গড়ে প্রতি বছর প্রায় ৩০ হাজার শিশুর জন্ম হচ্ছে বলেও জানান তিনি।পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের সময় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়ে বেইজিংয়ের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন।তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত না হলে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বিদ্যমান উদ্যোগগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষার পাশাপাশি সমতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রাখবে বাংলাদেশ।