
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কীভাবে মোকাবিলা করা হবে তা নিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে হওয়া একটি গোপন গ্রুপচ্যাটের অভিযোগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) কমিশনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই গ্রুপচ্যাটে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি ছাড়াও যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেরৎস এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি অংশ নিয়েছিলেন।তবে এই চ্যাটের বিষয়বস্তু এখনো গোপন রাখা হয়েছে। একটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান তথ্যের অ্যাক্সেস চাইলেও ইইউ কমিশন তা প্রত্যাখ্যান করে।ইইউ ওমবাডসম্যান তেরেসা আনজিনহো গত শুক্রবার কমিশন প্রেসিডেন্টের কাছে এক চিঠিতে জানান, তথ্য গোপনের ক্ষেত্রে কমিশন স্বচ্ছতার ঘাটতি দেখিয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করা হবে।ডাচ অনুসন্ধানী সংস্থা ‘ফলো দ্য মানি’ গত জানুয়ারিতে এই বার্তালাপের অ্যাক্সেস চাইলেও কমিশন তা নাকচ করে। তাদের যুক্তি ছিল, এসব তথ্য প্রকাশ করলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।এই তদন্ত কয়েক মাস ধরে চলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে কমিশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ওমবাডসম্যানের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।প্রাথমিকভাবে মার্চে অ্যাক্সেস প্রত্যাখ্যানের সময় কমিশন জানায়, সদস্য রাষ্ট্র ও তৃতীয় দেশের নেতাদের সঙ্গে তাদের “অবিরাম অনানুষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত যোগাযোগ” রয়েছে, যা মৌখিক ও লিখিত উভয়ভাবেই হয়ে থাকে। এসব যোগাযোগ জনস্বার্থে প্রকাশযোগ্য নয় বলেও তারা উল্লেখ করে।তবে অভিযোগকারী পক্ষ দাবি করেছে, কমিশন তাদের সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং আংশিক তথ্য প্রকাশের সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হয়নি। তারা আরও অভিযোগ করে, এসব বার্তা প্রকাশে কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে—সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণও দেখাতে পারেনি কমিশন।পরবর্তীতে বিষয়টি ওমবাডসম্যানের কাছে নেওয়া হলে তিনি কমিশনের কাছে সংশ্লিষ্ট সব নথি জমা দিতে বলেছেন।‘পলিটিকো’ প্রথম জানুয়ারিতে তথাকথিত “ওয়াশিংটন গ্রুপ”-এর বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে এক সূত্র জানায়, ট্রাম্প কোনো গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য বা পদক্ষেপ নিলেই এই গ্রুপে বার্তা আদান-প্রদান হতো।সূত্রটি আরও জানায়, “পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হলে সমন্বয় করা কঠিন হয়ে পড়ে, আর এই গ্রুপচ্যাটটি সে ক্ষেত্রে খুবই কার্যকর।”গত বছরের আগস্টে জেলেনস্কিকে সঙ্গে নিয়ে ইউরোপীয় নেতাদের হোয়াইট হাউস সফরের পর এই অনানুষ্ঠানিক কিন্তু সক্রিয় গ্রুপটি গঠিত হয়।প্রথম দিকে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর ইউরোপীয় নেতারা তাকে ক্ষুব্ধ না করতে সতর্ক ছিলেন। তবে পরে তারা প্রকাশ্যে সমালোচনায় আরও সরব হয়ে ওঠেন। বিশেষ করে ম্যাক্রোঁ ও মেরৎস ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থানের বিরোধিতা করেন।এর আগে, চলতি বছরের শুরুতে একটি কনফারেন্স কলে ইউরোপীয় কয়েকজন নেতা ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করলে কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।জার্মানির ডের স্পিগেল পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ম্যাক্রোঁ ওই কলে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ইউক্রেনকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ছাড়াই ভূখণ্ড ছাড়তে বাধ্য করে “বিশ্বাসঘাতকতা” করতে পারেন।এ সময় জার্মান চ্যান্সেলর মেরৎস, ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারকে ইঙ্গিত করে বলেন, “তারা আমাদের এবং আপনাদের সঙ্গেও খেলা করছে।”ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার স্টাব বলেন, “আমাদের ইউক্রেন ও জেলেনস্কিকে তাদের সঙ্গে একা ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়।” এতে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে একমত পোষণ করে বলেন, “আমি আলেক্সান্ডারের সঙ্গে একমত—আমাদের জেলেনস্কিকে রক্ষা করতে হবে।”