
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরা জেলা প্রাণীসম্পদ দপ্তরকে ঘিরে ওঠা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের চিত্র দিন দিন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। প্রথম পর্বে প্রকাশিত অভিযোগের ধারাবাহিকতায় এবার সামনে এসেছে ভ্যাকসিন ও ওষুধ বিতরণ, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং প্রকল্প বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে গুরুতর অনিয়মের নতুন তথ্য।
খামারি ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বিনামূল্যে বিতরণের জন্য সরকারি গুদামে থাকা ভ্যাকসিন ও ওষুধ অনেক সময় সাধারণ খামারিদের দেওয়া হয় না। বরং সেগুলো বাইরে বিক্রি কিংবা নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এতে একদিকে সরকারি সম্পদের অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন প্রান্তিক খামারিরা।
অভিযোগ উঠেছে, খামারি প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনা প্রকল্পগুলোতে স্বচ্ছতা নেই। ট্রেনিং অফিসার ডা. বিষ্ণুপদ বিশ্বাসের মাধ্যমে স্বজনপ্রীতি ও পছন্দের ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছেন একাধিক খামারি। ফলে প্রকৃত ও পরিশ্রমী খামারিরা বারবার তালিকার বাইরে থেকে যাচ্ছেন।
এছাড়া বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে হিসাবের গরমিল ও তদারকির অভাবের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীদের মতে, জেলা অফিসে দীর্ঘদিন ধরে একই কর্মকর্তাদের একক প্রভাব বিস্তারের ফলে কোনো প্রশ্ন তোলা বা অভিযোগ জানানো কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক খামারি বলেন,“প্রাণীসম্পদ অফিসে সেবার কথা বললেই নানা অজুহাত। কিন্তু দালাল বা তদবির থাকলে কাজ দ্রুত হয়। এতে সাধারণ খামারিরা অসহায় হয়ে পড়ছে।”সচেতন মহল মনে করছেন, এসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা শুধু প্রশাসনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী নয়, বরং জেলার খামার উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং জনস্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক হুমকি। তারা অবিলম্বে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন, আর্থিক অডিট এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাময়িক অব্যাহতির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এফ এম মান্নান কবির এবং ট্রেনিং অফিসার ডা. বিষ্ণুপদ বিশ্বাসের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, জেলা প্রশাসন ও প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত হস্তক্ষেপ করলে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে এবং অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।