
নিজস্ব প্রতিবেদক সাতক্ষীরা:
বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের অধীন ভোমরা স্থলবন্দরকে ঘিরে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত অভিযোগের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে আরও বিস্তর অভিযোগ সামনে এসেছে। বন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) মোঃ আতিকুল ইসলামকে কেন্দ্র করে অর্থ–বাণিজ্য, প্রভাব বিস্তার এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এখন ব্যবসায়ী ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
কয়েকজন ব্যবসায়ী ও ট্রাক মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, ট্রাক সিরিয়াল, দ্রুত ক্লিয়ারেন্স সুবিধা এবং পার্কিং ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের একটি অঘোষিত চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। তাদের অভিযোগ, নির্ধারিত ফি ছাড়াও অনানুষ্ঠানিকভাবে বড় অঙ্কের অর্থ না দিলে অযথা জটিলতা তৈরি করা হয়। কেউ কেউ বলেন, “নিয়ম মেনেও দিনের পর দিন বসে থাকতে হয়, কিন্তু বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্তরা দ্রুত কাজ শেষ করে বের হয়ে যান।”
অভিযোগকারীদের একাংশ আরও দাবি করেছেন, সংশ্লিষ্ট এই কর্মকর্তা অল্প সময়ের ব্যবধানে বিপুল পরিমাণ অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তার নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়ে উঠেছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো নির্ভরযোগ্য সরকারি নথি বা দুদকের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসেনি।
এছাড়া তার একজন জুনিয়র কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত মামুনের বিরুদ্ধেও অনিয়মে সহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী। অভিযোগকারীদের দাবি, ট্রাফিক সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে এই জুনিয়র কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রেও সক্রিয় থাকেন। যদিও এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।অভিযোগের বিষয়ে মোঃ আতিকুল ইসলামের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি মোবাইল ফোনে বলেন, “এ বিষয়ে আমি মোবাইলে কোনো বক্তব্য দিতে চাই না, আপনি আমার অফিসে আসেন।” পরবর্তীতে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করে সংক্ষিপ্তভাবে কথা শেষ করেন।
বন্দর সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, লিখিত ও প্রমাণসমর্থিত অভিযোগ পেলে কর্তৃপক্ষ অবশ্যই তদন্ত করবে। প্রয়োজনে বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রতিবেদন প্রেরণ করা হতে পারে।এদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে ডিজিটাল সিরিয়াল সিস্টেম চালু, সিসিটিভি নজরদারি বৃদ্ধি এবং নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের জোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে ভোমরা স্থলবন্দরের ভাবমূর্তি রক্ষা পাবে এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।