
* নায়েবদের বিশেষ জায়গায় বদলি জনপ্রতি ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ ঘুষ।
* টাকার বিনিময়ে খাসজমি জলমহল ইজারা সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ।
* অঢেল সম্পদের পাহাড়- ব্যাংক ব্যালেন্স।
নিজস্ব প্রতিবেদক :
সাতক্ষীরার জেলার ভূমি অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বদলির সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শাখার সিএ জিয়াউর রহমান। জেলা জুড়ে ভূমি সহকারী কর্মকর্তাদের বিশেষ কর্মস্থলে বদলির বিনিময়ে মোটা অংকের টাকা নিয়ে থাকেন। ভূমি সহকারী কর্মকর্তাদের বদলির জন্য জনপ্রতি সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমি অফিসগুলোতে ২ লাখ টাকা ঘুষ নেন। সিএ জিয়া অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মইনুল ইসলাম মইনের খুবই ঘনিষ্ঠ আস্থাভাজন। জেলাজুড়ে দুর্নীতিবাজ ভূমি সহকারী কর্মকর্তাদের থেকে মাসিক মাসহারা নেন মইনের নামে সিএ জিয়াউর । ভূমি অফিসের কোন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী অপরাধ করলে মিডিয়ায় প্রকাশ হলে জিয়া তাকে অপরাধ থেকে বাঁচানোর জন্য জোর তদবির করেন এডিসি মইনের কাছে ।অপরাধীকে নিজের আত্নীয় বানিয়ে কৌশলে অপরাধ মাফ করিয়ে পরে তার থেকে লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন। দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে শত অভিযোগ জমা হলেও জিয়ার সিন্ডিকেট সেটা টাকার বিনিময়ে ডিসমিস করে দেন। ভূমি অফিসের কর্মকর্তা কর্মাচারীদের বদলি, গুরুতর অভিযোগ ডিসমিস সকল সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে সিএ জিয়াউর ৷ বেপরোয়া জিয়াউর নিজেকে ডিসি মনে করে মানুষের সাথে রুক্ষ আচারণ করে। টাকার বিনিময়ে রাজস্ব শাখার অধীনে বড় ছোট খাসজমি, জলমহল ইজারা পাওয়ায়ে দেন জিয়াউর।
অনুসন্ধানে জানা যায়,
সিএ জিয়াউর রহমানের বাড়ি তালায়। সে ঘুষের টাকয় তালায় বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ গড়েছে। মাঠে কৃষি জমি, ব্যাংকে লক্ষ লক্ষ টাকার ডিপোজিট, শহরের একটি জায়গায় প্লট ক্রয় করেছে।
একের পর এক নায়েব পিয়নদের ঘুষলেনদেন প্রকাশ্য এলেও টাকার বিনিময়ে ব্যবস্থা নিতে দেয়না এই জিয়া । এডিসি মইন তার সিএ জিয়াউর মাধ্যমে ভূমি অফিসগুলো মাসিক মাসহারা পান । মাসিক মাসহারার বিনিময়ে ঘুষখোরদের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না বলে আশ্বাস দেন জিয়া। জিয়ার নিয়ন্ত্রণে চলে এডিসি মইন। জিয়ার সিন্ডিকেটের হস্তক্ষেপে মইনের নির্দেশে অফিসগুলো হয়ে উঠেছে ঘুষ লেনদেনের কারখানা। একের পর এক প্রকাশ্যে আসে ঘুষ লেনদেন। গণমাধ্যমে এসব ভিডিও প্রকাশিত হলে রাতারাতি টাকার বিনিময়ে শাস্তি না দিয়ে বদলি করা হয় । ঘুষ লেনদেনে জড়িত তালা নগরঘাটার ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আব্দুল মুকিত, খেশরার সহকারী কর্মকর্তা শিহাব উদ্দিন সাময়িক বরখাস্ত হয় । কিন্তু তাদের নামমাত্র শাস্তি দিয়ে জিয়ার মাধ্যমে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে পুন: বহাল করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি জেলার চাঞ্চল্যকর ঘটনা শ্যামনগর আটুলিয়ার কৃষকের ছেলে নায়েব আশরাফুউজ্জামান ঘুষের বিনিময়ে অবৈধ সম্পদ গড়েছে বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও ব্যবস্থা নেয়নি এডিসি মইন। সিএ জিয়াউরকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে শাস্তির বদলে নায়েব আশরাফুউজ্জামানকে কলারোয়ার জালালাবাদ ভূমি অফিসে বদলি করা হয়েছে। যেটা জেলাব্যাপী সুশীল নাগরিক সমাজের মাঝে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। গত ৭ই মার্চ বহুল আলোচিত সাতক্ষীরা শ্যামনগর উপজেলা ভূৃমি অফিসের সহকারী সরোয়ার হোসেনের প্রকাশ্য ঘুষ লেনদেন প্রকাশ হয়েছে জাতীয় ও আঞ্জলিক গণমাধ্যমে। অফিসে বসে প্রকাশ্য ঘুষ লেনদেনের পরও বহাল তবিয়তে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে দুর্নীতিবাজ কর্মচারী সরোয়ার। তথ্যসূত্র বলছে, সরোয়ার সিএ জিয়াউরের মাধ্যমে লাখ টাকার বিনিময়ে ঘুষ গ্রহণের শাস্তি না হয় রফাদফা করে ফেলেছে। তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেবে না জেলা প্রশাসন।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির বলেন, ভূমি অফিসে ঘুষ নেয় এটা সবাই জানে।মানুষ মেনে নিয়েছে ঘুষ দেওয়া। কিন্তু সবচেয়ে সমস্যা প্রকাশ্য ঘুষগ্রহণ মিডিয়ায় প্রচার হলে আমরা বিপাকে পড়ি তখন সমস্যা তৈরি হয় চাপ আসে। তবে এডিসি রাজস্ব মইন স্যার ভাল মানুষ জানি তবে তার সিএ জিয়াউর ভূমি অফিসের কর্মকর্তা কর্মাচারীদের বদলির বিনিময়ে টাকা নেয় মইন স্যারের নাম করে। তবে এটা সত্য জিয়া যাদের থেকে টাকা নেয় সবাইকে বদলি করিয়ে দিয়েছে সে কথা রাখে ঘুষখোর হলেও ভাল । এখন মইন স্যার বদলির টাকা ভাগ পায় কি না আমারা জানি না। আমরা সিএ জিয়াউরের মাধ্যমে লেনদেন করি মইন স্যারের সাথে সরাসরি কোন লেনদেন হয় না।ভূমি অফিসে হয়রানিপ্রাপ্ত শ্যামনগরের আব্দুর রহমান বলেন, টাকা ছাড়া কোন কাজ হয়না ভূমি অফিসে। আমি এক দুর্নীতিবাজ কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করলেও কোন সুরহা পায়নি। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি রাজস্ব শাখার বড়বাবু জিয়াকে দিয়ে সব ম্যানেজ করেছে সেই দুর্নীতিবাজ অফিস সহায়ক।সামাজিক আন্দোলনের নেতা হাসানুর রহমান বলেন, ভূমি অফিসগুলোতে টাকার খেলা চলে। নামজারি সরকারি খাজ জমি ইজারা খাজনা দাখিলা নেওয়া হয় টাকা। প্রকাশ্য ঘুষ গ্রহনের পরও ডিসি অফিস কেন পদক্ষেপ নেয় না তাহলে এসকল দুর্নীতিবাজরা মাসিক মাসহরা দেয় । ভূমি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ন্ত্রণ করে সিএ জিয়া। সব দুর্নীতিবাজকে সিএ জিয়া টাকার বিনিময়ে বাঁচায়। সিএ জিয়াকে বদলি করা হোক তার অবৈধ সম্পদের বিরুদ্ধে দুদক তদন্ত করে সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হোক।
ভূমি অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের ঘুষ সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণকারী রাজস্ব শাখার সিএ জিয়াউর বলেন, অনেকেই অভিযোগ করতে পারে কিন্তু প্রমাণ আছে।আপনি নিউজ না করে সরাসরি অফিসে দেখা আসেন মইন স্যারের সাথে কথা বলে সমাধান করব।
রাজস্ব শাখার সিএ জিয়ার ঘুষ সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে সাতক্ষীরা অতিরুক্ত জেলা প্রশাসক মইনূল ইসলামকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেন নি।