
সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি:
১৪ তম গ্রেডের একজন ইউনিয়ন পরিষদ সচিবের চাকরি করে কীভাবে অল্প সময়ের ব্যবধানে শতকোটি টাকার সম্পদের মালিক হওয়া সম্ভব—এ প্রশ্ন এখন সাভার ও ধামরাই এলাকার মানুষের মুখে মুখে। তেতুলঝোড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সচিব এবং বর্তমানে ধামরাই উপজেলার কুল্লা ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত মীর আব্দুল বারেকের বিপুল সম্পদের খোঁজে অনুসন্ধান চালাতে গিয়ে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।স্থানীয় সূত্র বলছে, সরকারি চাকরির আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রকল্প, উন্নয়ন কাজ, নাগরিক সেবা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী আর্থিক নেটওয়ার্ক। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমেই তিনি অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
নামে-বেনামে সম্পদ কেনার অভিযোগ অনুসন্ধানে জানা গেছে, নিজের নামে ছাড়াও স্ত্রী, আত্মীয়স্বজন এবং ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সহযোগীর নামে বিপুল পরিমাণ জমি ও স্থাবর সম্পত্তি ক্রয় করেছেন মীর আব্দুল বারেক।তেতুলঝোড়া এলাকায় তার নির্মিত বহুতল ভবনের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন স্থানে ধাপে ধাপে জমি কেনার তথ্য পাওয়া গেছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, কয়েক বছর আগেও যেখানে তিনি সাধারণ জীবনযাপন করতেন, সেখানে এখন তার নামে-বেনামে কয়েক কোটি টাকার জমি, বাড়ি এবং ফ্ল্যাট রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই এসব সম্পত্তি কেনাবেচা হয়েছে গোপনে বা অন্যের নামে দলিল করে।রাজধানীতেও সম্পদের সন্ধান
শুধু সাভার বা তেতুলঝোড়া এলাকাতেই নয়, রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকাতেও তার সম্পদের খোঁজ মিলেছে বলে দাবি স্থানীয়দের। বিশেষ করে কল্যাণপুরসহ ঢাকার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তার ফ্ল্যাট বা বিনিয়োগ থাকার তথ্য নিয়ে ইতিমধ্যে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, একজন ১৪ তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীর বৈধ আয়ের সঙ্গে এই বিপুল সম্পদের কোনো সামঞ্জস্য খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।ক্ষমতার প্রভাব ও নেটওয়ার্কস্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণেই দীর্ঘদিন ধরে তিনি প্রভাব বিস্তার করে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।বিশেষ করে স্থানীয় রাজনীতির কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে তার সম্পর্কের কারণে বিভিন্ন সময় ওঠা অভিযোগগুলো ধামাচাপা পড়ে গেছে বলে দাবি অনেকের।তদন্তের দাবিএলাকাবাসীর একটি বড় অংশ মনে করছেন, তার বিপুল সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখতে **দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)**সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি তদন্ত প্রয়োজন।তাদের মতে, সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে এবং অবৈধ সম্পদের বিষয়টি পরিষ্কার হবে।
আগামী পর্বে যা থাকছেঅনুসন্ধানী এই প্রতিবেদনের পরবর্তী পর্বে তুলে ধরা হবে—
তার নামে-বেনামে কেনা জমির বিস্তারিত তথ্য
বহুতল ভবন ও ফ্ল্যাটের অবস্থান ও বাজারমূল্য
সরকারি প্রকল্প থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের নেপথ্যের তথ্য
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও প্রতিক্রিয়া