তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ২নং নগরঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও মেম্বার শিব মেম্বারকে ঘিরে নানা অনিয়ম ও বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এক সময়ের সাধারণ জীবনযাপন করা শিব মেম্বার বর্তমানে বিপুল সম্পদের মালিক। তার সম্পদের উৎস ও ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের বরাদ্দ নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন ও আলোচনা রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
ছাদ মেরামতের ১০ লাখ টাকা নিয়ে প্রশ্ন
নগরঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের ভবনের ছাদ দীর্ঘদিন ধরে ফেটে যাওয়ায় বৃষ্টির সময় ভবনের ভেতরে পানি পড়ে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজ করতে এবং সাধারণ মানুষকে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সেবা নিতে সমস্যায় পড়তে হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদের ছাদ মেরামতের জন্য সরকারিভাবে ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বরাদ্দের পরও ছাদ মেরামতের দৃশ্যমান কোনো কাজ হয়নি বলে দাবি এলাকাবাসীর। ফলে বরাদ্দকৃত ১০ লাখ টাকা কোথায় গেল—এ প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বরাদ্দের অর্থের যথাযথ ব্যবহার না হয়ে থাকলে এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
আরও বরাদ্দ নিয়ে উঠছে অভিযোগ
শুধু ছাদ মেরামতের বরাদ্দ নয়, নগরঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন সময়ের আরও কিছু উন্নয়ন বরাদ্দের অর্থ নিয়েও অনিয়ম ও আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের নামে বরাদ্দ আসলেও বাস্তবে কাজের পরিমাণ, ব্যয় এবং বরাদ্দের অর্থের মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
অভিযোগকারীরা এসব বিষয়ে কাগজপত্র যাচাই, প্রকল্পের বাস্তব চিত্র পরিদর্শন এবং প্রয়োজনে বিশেষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
সম্পদের উৎস নিয়েও প্রশ্ন
স্থানীয়দের একটি অংশ শিব মেম্বারের বর্তমান সম্পদ ও জীবনযাপন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের ভাষ্য, জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তার সম্পদের পরিমাণ ও সম্পদ বৃদ্ধির উৎস খতিয়ে দেখা দরকার।
তবে কারও সম্পদকে অবৈধ বলা বা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত এবং প্রামাণ্য তথ্য যাচাই করা জরুরি।
জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ
নগরঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের ছাদ ফেটে যাওয়া এবং ছাদ মেরামতের জন্য বরাদ্দকৃত ১০ লাখ টাকা নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগে ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে তদন্ত, বরাদ্দকৃত অর্থের হিসাব যাচাই এবং কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগের সঙ্গে ছবি, ভিডিও ও অডিও প্রমাণ সংযুক্ত থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি—তদন্ত হোক
এলাকাবাসীর দাবি, জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত বিরোধ হিসেবে না দেখে প্রশাসনিকভাবে নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। বিশেষ করে ১০ লাখ টাকার বরাদ্দের সরকারি নথি, প্রকল্পের অনুমোদন, বিল-ভাউচার, কাজের পরিমাণ এবং অর্থ উত্তোলনের তথ্য যাচাই করলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন তারা।
অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
শিব মেম্বারের বক্তব্য শিব মেম্বারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনের পরবর্তী পর্বে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
একই সঙ্গে নগরঘাটা ইউনিয়ন পরিষদ এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্যও পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।