
সামিউল মনির শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) ॥
প্রায় ১৮ মাস ধরে ঘরবাড়ি ছেড়ে পলায়নপর জীবনযাপন করছে ভুমিহীন নেতা মোকছেদ আলী ও তার পরিবারের সদস্যরা। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট তার পরিবারের সদস্যদের বসতঘরে অগ্নি সংযোগের পর থেকে বাড়িঘর ছাড়া উক্ত ভুমিহীন নেতা ও তার পরিবারের সদস্যরা। শ্যামনগর উপজেলার নকিপুর গ্রামের মৃত ছকিমদ্দীন গাজীর ছেলে মোকছেদ আলী সাতক্ষীরা জেলা বাস্তুহারা ভুমিহীন সমাজকল্যান সংস্থার সভাপতি। জমি-জমা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের ভাড়াটে সন্ত্রাসী হিসেবে বিএনপি নেতা জহরুরুল হক আপ্পু ও যুবদল নেতা কল্লোলের নেতৃত্বে ভুমিহীন পল্লীর ৪৩টি ঘরে সেদিন অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে প্রতিপক্ষের নিকট থেকে ১০ লাখ টাকা গ্রহন করে বিএনপি ও যুবদলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ নকিপুর-কাতখালী মোকছেদনগরে সেদিন এমন তান্ডব চালিয়েছিলেন। মোকছেদ আলী জানান শামনগর মৌজার এসএ ১ খতিয়ানের প্রায় আট একর জমি ১৯৭৭ সালে ১৫ জন ভুমিহীন পরিবারের নামে বন্দোবস্ত গ্রহন করা হয়। নানান আইনী জটিলতা কাটিয়ে ২০২১ সালে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বন্দোবস্তকৃত জমিতে ৪৩টি পরিবার বসতি স্থাপন করে। একপর্যায়ে গত ৫ আগষ্ট সরকার পরিবর্তনের রাতে উপজেলা বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক জহরুল হক আপ্পু, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম-আহবায়ক হাফিজ আল আসাদ কল্লোলসহ ৫০/৬০ জন উক্ত ভুমিহীন পল্লীতে হামলা চালায়। এসময় তারা বসতঘর ভাংচুরসহ লুটপাট শেষে প্রতিটি ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়।
এঘটনায় শ্যামনগর থানা পুলিশ মামলা গ্রহনে অস্বীকৃতি জানানোর পর তিনি বিজ্ঞ দ্রুত বিচার আদালত(সাতক্ষীরা) তে গত ৯ অক্টোবর ২০২৪ তারিখেবিএনপি নেতা জহরুল হক আপ্পু ও যুবদল নেতা হাফিজ আল আসাদ, তার ভাই থানা অগ্নি সংযোগকারী মাসুদসহ ৪৮ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। সন্ত্রাসীদের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন উল্লেখ করে মোকছেদ আলী আরও জানান তিনি পরবর্তীতে দু’বার বাড়িতে ফেরার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু জহরুল হক আপ্পু বাদঘাটা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় এলাকা থেকে নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে মারপিট করে তাকে আবারও এলাকা ছাড়া করেন। এছাড়া গত বছর রোযার সময়ে বাড়িতে ফেরার পর আ’লীগের রাজনীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে পুলিশ দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করিয়ে কারাগারে পাঠায়। ক্রন্দনরত মোকছেদ আলী জানান বিএনপি নেতা জহরুল হক আপ্পু ও যুবদল নেতা হাফিজ আল কল্লোল প্রতিনিয়ম হুমকি দেয়ায় তিনি বাড়িঘরে ফিরতে সাহস পাচ্ছেন না। তার জমি থেকে ধান কেটে নেয়ার পর এখন ফলানো সরিষা তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দিচ্ছে।মোকছেদ আলী আরও জানান জহরুল হক আ্প্পু ও হাফিজ আল আসাদ কল্লোল মব তৈরী এবং দলীয় প্রভাব খাটিয়ে চার্জশীট থেকে নিজেদের নাম বাদ দিতে পুলিশকে বাধ্য করেছেন। পরবর্তীতে উক্ত চার্জশীটের বিরুদ্ধে তিনি বিজ্ঞ আদালতে ‘না রাজি’ দিলেও বিজ্ঞ আদালতে তা অগ্রাহ্য হয়েছে। এমতাবস্থায় আইনের আওতায় না আসা এসব সন্ত্রাসীদের ভয়ে তিনি নিজের পাশাপাশি পরিবারের অপরাপর সদস্যদের জীবন ও সহায়-সম্পত্তি নিয়ে নিদারুণ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এমতাবস্থায় এসব সন্ত্রাসীদের কবল থেকে রক্ষা পেতে ভুমিহীন নেতা মোকছেদ আলী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর আন্তরিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।