পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানার মোবাইল শোরুম ব্যবসায়ী রিনা টেলিকমের মালিক রুপায়ন হাজারীকে ঘিরে নানা অভিযোগ ও আলোচনা স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে ব্যবসায়িক ও আর্থিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন। এ নিয়ে এলাকায় নানা ধরনের আলোচনা থাকলেও অভিযোগগুলোর স্বাধীন ও নিরপেক্ষ যাচাই প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কয়েকজন সাবেক সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে তার অর্থনৈতিক লেনদেন ও ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা ছিল। কেউ কেউ দাবি করছেন, রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে তিনি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কী ধরনের নথি বা প্রমাণ রয়েছে, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
এদিকে রুপায়ন হাজারীর বিরুদ্ধে সুদে টাকা দেওয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে আর্থিকভাবে বিপাকে ফেলার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, উচ্চহারে সুদের টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে অনেক মানুষ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। নির্ধারিত সময়ে সুদের টাকা বা লাভ পরিশোধ করতে না পারলে চাপ সৃষ্টি করা হতো বলেও কয়েকজন অভিযোগ করেছেন।
আরও অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ আমলে তার কাছ থেকে নেওয়া টাকা ও সুদের অর্থ পরিশোধ নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হলে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের কাছে প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট থানার নথি, মামলার তথ্য এবং অভিযোগকারীদের বক্তব্য পরীক্ষা করা জরুরি।
স্থানীয়দের কেউ কেউ বলছেন, ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে সুদের কারবার, মানুষের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ, অর্থ ফেরত দেওয়ার শর্ত এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে কথিত আর্থিক সম্পর্ক—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ অনুসন্ধান হওয়া উচিত।
অভিযোগকারীরা দাবি করছেন, হাজারীর ব্যবসায়িক কার্যক্রম, কথিত অর্থনৈতিক লেনদেন এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসতে পারে। একই সঙ্গে তার নামে কোনো মামলা, অভিযোগ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথি থাকলে সেগুলোও যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে রিনা টেলিকমের মালিক রুপায়ন হাজারীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য জানা গেলে তা প্রতিবেদনে যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা না করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। সচেতন মহলের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা এবং অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।