
পাটকেলঘাটা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানাধীন বাইগুনী গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা, গাঁজা ও কথিত উইনকোরেক্সসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের খুচরা ও পাইকারি ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে মোমিনুর রহমান ওরফে মনার বিরুদ্ধে। থানার নাকের ডগায় বসে প্রকাশ্যে-গোপনে মাদক ব্যবসা পরিচালিত হলেও রহস্যজনক কারণে তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না—এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী, সচেতন মহল ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাইগুনী জামে মসজিদের পাশের একটি বাড়িকে কেন্দ্র করে মাদক বিক্রির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া বাইগুনী গ্রামে প্রবেশপথে তার প্রথম স্ত্রীর বাড়িতেও গোপনে পাইকারি মাদক বেচাকেনা চলে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, মসজিদের পাশের বাড়িতে লোকচক্ষুর সামনে সীমিত পরিসরে গাঁজা বিক্রি করা হলেও ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্যের কথিত পাইকারি বেচাকেনা অপেক্ষাকৃত আড়ালে পরিচালিত হয়।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন বয়সী মানুষের ওই এলাকায় যাতায়াত দেখা যায়। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চললেও কার্যকরভাবে তা বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়দের কেউ কেউ প্রতিবাদ করার চেষ্টা করলেও প্রভাব ও অর্থের কারণে অনেকেই পরে নীরব হয়ে যান বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, মোমিনুর রহমান মনার বিরুদ্ধে অতীতে একাধিক মাদক মামলা হয়েছে। এলাকাবাসীর কেউ কেউ তার বিরুদ্ধে প্রায় দুই ডজন মামলায় আসামি থাকার দাবি করলেও এসব মামলার সংখ্যা ও বর্তমান আইনগত অবস্থার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার নথি যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে আটক করে মামলা দিলেও পরবর্তীতে জামিনে বের হয়ে আবারও একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। এমনকি তিনি কারাগারে থাকাকালীন তার স্ত্রী মাদক ব্যবসা পরিচালনা করেন বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ।
সীমান্ত এলাকার সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ
স্থানীয়দের অভিযোগ, মোমিনুর রহমানের শ্বশুরবাড়ি সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী ভোমরা এলাকায় হওয়ায় সীমান্তপথে মাদকসহ অবৈধ পণ্যের সরবরাহের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে। তার শ্বশুরবাড়ির কয়েকজন সদস্য সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান ও স্বর্ণ পাচারের সঙ্গে জড়িত—এমন অভিযোগও করেছেন কেউ কেউ। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তেই এ বিষয়ে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, অতীতে রাজনৈতিক প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে মোমিনুর রহমানের ঘনিষ্ঠতা ছিল এবং তার বাড়িতে মাদক সেবনের আসর বসত। তবে এসব অভিযোগেরও নিরপেক্ষ প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া প্রয়োজন।
যুবসমাজ নিয়ে উদ্বেগ
মাদক ব্যবসার কারণে বাইগুনীসহ আশপাশের এলাকার যুবসমাজ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। সচেতন মহলের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কোনো এলাকায় মাদক ব্যবসা চলতে থাকলে শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিই নয়, শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্মও ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই কথিত মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
উপজেলা যুবনেতার বক্তব্য
তালা উপজেলা যুবনেতা জাহাঙ্গীর হোসেন লাকী বলেন, “মনা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে এলাকার মানুষ অভিযোগ করে আসছে। সে একজন ভয়ংকর মাদক ব্যবসায়ী। মাদক সেবনের কারণে এলাকার যুবসমাজ ও স্কুল-কলেজের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে। মনার মতো মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
তিনি আরও বলেন, “এলাকার অনেক মানুষ আমার কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করেছেন। প্রশাসন যদি কার্যকর ব্যবস্থা নেয়, তাহলে মাদক ব্যবসা বন্ধ করা সম্ভব। প্রয়োজনে এলাকাবাসী ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে আমরা মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলব।”
জাহাঙ্গীর হোসেন লাকী আরও বলেন, “মাদক নির্মূলে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির বাস্তবায়নে আমরা সবসময় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।”
পরিশেষে তিনি মোমিনুর রহমান মনা ও তার পরিবারের কোনো সদস্য মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রশাসনের পদক্ষেপের দাবি এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের দাবি, বাইগুনী গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হোক। একই সঙ্গে মাদক বিক্রির কথিত স্থানগুলোতে অভিযান পরিচালনা, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তকরণ এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
তাদের প্রশ্ন—থানার কাছাকাছি এলাকায় যদি দীর্ঘদিন ধরে মাদক বেচাকেনার অভিযোগ সত্য হয়ে থাকে, তাহলে এতদিনেও এর মূল হোতাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা কেন নেওয়া হয়নি?
তবে মোমিনুর রহমান মনা ও তার পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।