
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সাতক্ষীরা জেলার পাটকেলঘাটা এলাকায় দিন দিন উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে মাদক, অনলাইন জুয়া ও চুরির ঘটনা। স্থানীয়দের অভিযোগ, হাত বাড়ালেই মিলছে মরণ নেশা ইয়াবা। একই সঙ্গে অনলাইন জুয়ার বিস্তার এবং চোরের উৎপাত সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে চরমভাবে ব্যাহত করছে। এ অবস্থায় দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অভিযান ও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
পাটকেলঘাটা থানার অধীন ধানদিয়া, নগরঘাটা, সরুলিয়া, কুমিরা ও খলিষখালী—এই পাঁচটি ইউনিয়নে ইয়াবা ব্যবসা উদ্বেগজনকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এলাকাবাসীর দাবি, বিভিন্ন স্থানে গোপনে মাদক বিক্রি হচ্ছে এবং একটি অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবসা পরিচালনা করছে। ফলে তরুণ সমাজ ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইয়াবা হলো মেথাম্ফেটামিন ও ক্যাফেইনের সমন্বয়ে তৈরি অত্যন্ত ক্ষতিকর একটি মাদক। এর দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার মানুষের মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি, হৃদরোগ, কিডনি বিকল, মানসিক ভারসাম্যহীনতা, স্মৃতিশক্তি হ্রাস এবং অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই মাদকের ভয়াল থাবা থেকে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, তরুণ-তরুণী এমনকি বয়স্করাও রেহাই পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।
শুধু মাদক নয়, একই সঙ্গে অনলাইন জুয়ার বিস্তারও আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। সহজে অর্থ উপার্জনের প্রলোভনে অনেক তরুণ এই অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। এতে পরিবারে অশান্তি, ঋণের বোঝা এবং সামাজিক অবক্ষয় বাড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় চুরির ঘটনাও বেড়েছে। রাতের আঁধারে বাড়িঘর, দোকানপাট ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চুরি সংঘটিত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের দাবি, মাদক কারবারি, অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এবং চোরচক্রের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন ও অভিভাবকদের সমন্বয়ে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
তবে উল্লেখ্য, মাদক ব্যবসা, অনলাইন জুয়া ও চুরির বিষয়ে উল্লিখিত অভিযোগগুলো স্থানীয়দের বক্তব্য ও অভিযোগের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এই প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।