
স্টাফ রিপোর্টার;সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানার বড়বিলা গ্রামের কথিত ভূমিদস্যু নিরঞ্জন দাসের বিরুদ্ধে সরকারি খাস জমি দখলের অভিযোগে প্রশাসনের অভিযান পরিচালিত হয়েছে। সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পাটকেলঘাটা বাজারের টাওয়ার রোডে পুটিয়াখালী মৌজার ‘ক’ তফসিলভুক্ত সরকারি সম্পত্তির ওপর নির্মাণাধীন অবৈধ দোকানঘর ভেঙে ফেলা হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার অফিস ছুটির সুযোগে নিরঞ্জন দাস সরকারি খাস জমিতে অবৈধভাবে দোকানঘর নির্মাণ শুরু করেন। বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিক ও প্রশাসনের নজরে আসলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি)-এর নির্দেশে পাটকেলঘাটা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাহাত খান ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয় এবং সরকারি নির্দেশ অমান্য করায় নিরঞ্জন দাসকে আর্থিক জরিমানা করা হয়।জানা গেছে, পুটিয়াখালী মৌজার জেএল নং-৪৫, খতিয়ান নং-৮৭৭ ও দাগ নং-১৪৪৯ এর জমিটি ৯ ডিসেম্বর ১৯৮৭ সালে সরকারের ‘ক’ তফসিলভুক্ত সম্পত্তি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। জমিটির পূর্ব মালিক ছিলেন মৃত অমৃত কৃষ্ণ ও মৃত জ্ঞাতেন্দ্র হোড়। পরবর্তীতে সরকার উক্ত সম্পত্তি ভোগদখল না করার জন্য নির্দেশনা জারি করে, যার মামলা নং-৩১৮৬।অভিযোগ রয়েছে, নিরঞ্জন দাস জমিটির প্রকৃত মালিকপক্ষের কেউ না হয়েও দীর্ঘদিন ধরে জোরপূর্বক মালিকানা দাবি করে আসছেন এবং বারবার জমি দখলের চেষ্টা করছেন। এর আগেও ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে একই জমিতে অবৈধভাবে দোকানঘর নির্মাণের সময় সাংবাদিকরা সংবাদ সংগ্রহে গেলে তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, ওই ঘটনায় সাংবাদিকদের মারধরও করা হয়েছিল।মামলায় নিরঞ্জন দাস জমিটি নিজের ক্রয়কৃত সম্পত্তি বলে দাবি করলেও বৈধ মালিকানার দলিল দেখাতে পারেননি। তিনি তিনশত টাকার একটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প প্রদর্শন করেন, যা মৃত রবীন পরামানিকের ওয়ারিশদের কাছ থেকে নেওয়া বলে জানা যায়। তবে স্থানীয় সূত্র মতে, মৃত রবীন পরামানিক উক্ত সম্পত্তির প্রকৃত ওয়ারিশ নন।এ বিষয়ে পাটকেলঘাটা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাহাত খান বলেন, “জমিটির মালিক সরকার। এর আগেও নিরঞ্জন দাস অবৈধভাবে দোকান নির্মাণ করলে আমরা সেটি উচ্ছেদ করে লাল ফিতা টানিয়ে দিই। পরে সে পুনরায় সরকারি নির্দেশ অমান্য করে দোকানঘর নির্মাণ করলে আবারও তা ভেঙে ফেলা হয়েছে। ভবিষ্যতে একই কাজ করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল সরকারি জমি দখলচেষ্টা বন্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন।