সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরা জেলা পাসপোর্ট অফিসের অফিস সহকারী মনিরুজ্জামানকে ঘিরে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর আগে সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি, নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং দালালদের মাধ্যমে কাজ করিয়ে দেওয়ার অভিযোগ সামনে এলেও এবার তার বিরুদ্ধে আরও কিছু গুরুতর অভিযোগের কথা বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে। এর মধ্যে নারীঘটিত অনৈতিক আচরণ বা কথিত নারী কেলেঙ্কারি সংক্রান্ত অভিযোগের কথাও উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
অভিযোগকারীদের দাবি, একজন সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে যখন একাধিক ধরনের অভিযোগ সামনে আসে, তখন বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করা প্রয়োজন। কোনো অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগ মিথ্যা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপপ্রচারের বিষয়টিও পরিষ্কার করা জরুরি।
সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ
পাসপোর্ট সংক্রান্ত সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে—এমন অভিযোগ রয়েছে। কেউ কেউ দাবি করেছেন, সরকারি নির্ধারিত ফি সম্পর্কে বিভ্রান্তির সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়েছে। আবার অভিযোগ রয়েছে, সরাসরি অফিসের মাধ্যমে কাজ করতে গিয়ে দীর্ঘসূত্রতার মুখে পড়লেও মধ্যস্থতাকারী বা দালালের মাধ্যমে গেলে দ্রুত কাজ করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সেবাগ্রহীতাদের লিখিত অভিযোগ, টাকা লেনদেনের প্রমাণ, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, সিসিটিভি ফুটেজ এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
নারীঘটিত অভিযোগ নিয়েও প্রশ্ন
অফিস সহকারী মনিরুজ্জামানকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে নারীঘটিত অনৈতিক আচরণ ও কথিত নারী কেলেঙ্কারি সংক্রান্ত অভিযোগের কথাও শোনা যাচ্ছে। তবে এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় কারও ব্যক্তিগত সম্মানহানি না করে অভিযোগের সুনির্দিষ্ট তথ্য, প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য যাচাই করা জরুরি।
কোনো নারী এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন কি না, অভিযোগের পেছনে কোনো নথি বা আইনগত প্রক্রিয়া রয়েছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সম্পর্কে অবগত কি না—তদন্তের মাধ্যমে এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
দালালচক্রের সঙ্গে সম্পর্ক আছে কি?
পাসপোর্ট অফিসকে ঘিরে দালালদের দৌরাত্ম্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ মানুষের মধ্যে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু ব্যক্তি অফিসের বাইরে অবস্থান করে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে দ্রুত কাজ করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন।
সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন—এসব দালালের সঙ্গে অফিসের কোনো কর্মচারীর যোগাযোগ বা যোগসাজশ রয়েছে কি না। যদি থাকে, তাহলে কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং কীভাবে এই চক্র পরিচালিত হচ্ছে, তা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
সচেতন মহলের মতে, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উচিত একটি নিরপেক্ষ তদন্ত করা। তদন্তে সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, অফিসের নথিপত্র, সিসিটিভি ফুটেজ, অর্থ লেনদেনের প্রমাণ, দালালদের ভূমিকা এবং নারীঘটিত অভিযোগের কোনো লিখিত বা আইনগত ভিত্তি রয়েছে কি না—সবকিছু খতিয়ে দেখা যেতে পারে।অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগের সত্যতা না থাকলে সেটিও তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।
এ বিষয়ে অফিস সহকারী মনিরুজ্জামানের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
চলবে…