নিজস্ব প্রতিবেদক দৈনিক যশোর বার্তা
সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটার বাসিন্দা মীর শাহীন হোসেনকে ঘিরে পুরোনো মামলার নথি, ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড এবং সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে কেন্দ্র করে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ধারাবাহিক অনুসন্ধান শুরু করেছে দৈনিক যশোর বার্তার অনুসন্ধানী টিম।
অনুসন্ধানী টিমের হাতে আসা নথির তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার ডিএমপির কোতয়ালী থানায় এফআইআর নং–১২/২২, তারিখ ০৯ জানুয়ারি ২০২২, এবং জি.আর. নং–১২/২২, তারিখ ১০ জানুয়ারি ২০২২-এর একটি মামলা রয়েছে। নথিতে ২০১২ সালের মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-এর ধারা ৪(২)/৪ উল্লেখ করে মীর শাহীন হোসেনকে এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে দেখানো হয়েছে।
মামলার এজাহারে মামলা রুজুর সময় ১৮:২০ ঘটিকা উল্লেখ রয়েছে। তবে ওই মামলার তদন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে, চার্জশিট হয়েছে কি না, আদালতে বিচারাধীন কি না কিংবা পরবর্তীতে মামলার কী পরিণতি হয়েছে—এসব বিষয়ের পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংশ্লিষ্ট আদালত ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর রেকর্ড থেকে যাচাই করা হচ্ছে।
সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা কেন?
অনুসন্ধানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—মীর শাহীন হোসেন পরবর্তীতে দৈনিক যশোর বার্তার সম্পাদক ও প্রকাশক অধ্যাপক শিহাব উদ্দিন এবং সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বলে নথি থেকে জানা গেছে।
পত্রিকা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে নথি, অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য যাচাই করা সাংবাদিকতার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে সংবাদ প্রকাশের কারণে কোনো মামলা হয়ে থাকলে সেই মামলার অভিযোগও সমান গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা হবে।
এ কারণে অনুসন্ধানের কেন্দ্রে এখন দুটি বিষয়—একদিকে মীর শাহীনের বিরুদ্ধে থাকা পুরোনো মামলার নথি, অন্যদিকে সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে তার দায়ের করা মামলার অভিযোগ।
ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড নিয়েও প্রশ্ন
স্থানীয় পর্যায়ে মীর শাহীনকে ঘিরে বিভিন্ন ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা অভিযোগের কথা অনুসন্ধানী টিমের কাছে এসেছে। বিশেষ করে পাটকেলঘাটা ও আশপাশের এলাকায় দোকান ও ব্যবসা পরিচালনা, ব্যবসার বৈধ কাগজপত্র এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমের প্রকৃতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি।
আশন্ননগর মোড়সহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় তার ব্যবসায়িক কার্যক্রমের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। কোনো প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স, মালিকানা, ভাড়া চুক্তি, ব্যবসার ধরন কিংবা সংশ্লিষ্ট সরকারি অনুমোদন থাকলে সেগুলোও যাচাই করা হবে।
স্বর্ণ ব্যবসা বা অন্যান্য আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না—এমন অভিযোগও অনুসন্ধানী টিমের কাছে এসেছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত স্বাধীন নথি না পাওয়া পর্যন্ত সেটিকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। প্রমাণ পাওয়া গেলে পরবর্তী প্রতিবেদনে তা নথিসহ প্রকাশ করা হবে।
পরিচয় পরিবর্তনের অভিযোগও অনুসন্ধানে
মীর শাহীনকে ঘিরে নিজের পরিচয় বা ধর্মীয় পরিচয় পরিবর্তন করে মামলা থেকে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে—এমন অভিযোগও অনুসন্ধানী টিমের কাছে এসেছে। তবে ধর্মীয় পরিচয় অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় হওয়ায় কোনো ব্যক্তির বক্তব্য বা সরকারি নথি যাচাই ছাড়া এ অভিযোগকে সত্য হিসেবে প্রকাশ করা হচ্ছে না।
জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র, আদালতের নথি কিংবা অন্যান্য সরকারি রেকর্ডে এ ধরনের কোনো পরিবর্তনের তথ্য রয়েছে কি না—তা যাচাই করা হচ্ছে। নথিতে প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আইনি প্রেক্ষাপটসহ তা প্রকাশ করা হবে।
স্ত্রীকে ব্যবহার করে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ
এছাড়া মীর শাহীনের স্ত্রীকে সামনে রেখে বা তার নামে কোনো ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে কি না, সম্পদের মালিকানা বা আর্থিক লেনদেনে তার ভূমিকা কী—এসব বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
তবে কোনো ব্যক্তির স্ত্রী বা পরিবারের সদস্যের বিরুদ্ধে শুধু সম্পর্কের কারণে কোনো অভিযোগ আরোপ করা হবে না। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নামে থাকা নথি, ব্যবসায়িক কাগজপত্র ও আর্থিক রেকর্ড যাচাই করেই কেবল প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।
পুরোনো মামলার নথি বনাম নতুন মামলা
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে—২০২২ সালের মামলার নথিতে মীর শাহীন হোসেনের নাম থাকার বিষয়টি এবং পরবর্তীতে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে করা মামলার মধ্যে কোনো প্রাসঙ্গিক যোগসূত্র আছে কি না।
এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে দুটি মামলার এজাহার, তদন্ত প্রতিবেদন, আদালতের আদেশ, সাক্ষ্য এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। অনুসন্ধানী টিম সেই নথিগুলো সংগ্রহের কাজ করছে।
দৈনিক যশোর বার্তার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংবাদ প্রকাশের কারণে কোনো সাংবাদিক বা সম্পাদক আইনি মামলার মুখোমুখি হলে আদালতের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে আইনগতভাবেই বিষয়টির মোকাবিলা করা হবে। একই সঙ্গে যেসব অভিযোগের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, সেগুলোর নথিপত্রও সংরক্ষণ করা হচ্ছে।বক্তব্যের সুযোগ থাকছে মীর শাহীনের
এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত অভিযোগ ও নথির বিষয়ে মীর শাহীন হোসেনের বক্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার কাছে এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা, প্রতিবাদ, নথি বা বক্তব্য থাকলে তা দৈনিক যশোর বার্তার পক্ষ থেকে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
একইভাবে সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, আদালত, ব্যবসায়িক কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের বক্তব্যও পরবর্তী পর্বে যুক্ত করা হবে।
দৈনিক যশোর বার্তার অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।