
নিজস্ব প্রতিবেদক সাতক্ষীরা;সাতক্ষীরার সাবেক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মইনুল ইসলাম মইনের বিরুদ্ধে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ নিয়ে জেলাজুড়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, নির্বাচনী বিভিন্ন প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের আশ্বাস দিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ গ্রহণের ঘটনা ঘটেছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে জেলা প্রশাসনের ভূমি শাখা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমকে ঘিরে নানা ধরনের অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠে আসছিল। সম্প্রতি দৈনিক সোনার বাংলাদেশে ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রশাসনের অভ্যন্তরে কথিত অনিয়ম ও দুর্নীতির বিভিন্ন চিত্র সামনে আসে। এরপর বিষয়টি জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।অফিস সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সংবাদ প্রকাশের পরপরই অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মইনুল ইসলামকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বদলির কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, নির্বাচনকে ঘিরে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। তাই ওঠা অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা জরুরি। তাদের মতে, যদি কোনো জনপ্রতিনিধি বা অন্য কারও কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ গ্রহণের ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে তা শুধু প্রশাসনিক অনিয়ম নয়, বরং রাষ্ট্রের সুশাসনের জন্যও বড় ধরনের হুমকি।জেলার রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলের একাধিক ব্যক্তির বক্তব্য, অভিযোগের সত্যতা উদঘাটনে উচ্চ পর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি যেই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে সাবেক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মইনুল ইসলাম মইনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণ পেলে বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখতে পারে।
সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের মতে, প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হলে যেকোনো অভিযোগের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্তের বিকল্প নেই। তারা মনে করেন, অভিযোগের সত্যতা উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণই জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারের একমাত্র পথ।