
নিজস্ব প্রতিবেদক | সাতক্ষীরা
সাতক্ষীরায় একটি নারী উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালকের বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বের আড়ালে দুই দেশে সম্পদ গড়ে তোলা, এনজিও প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, প্রভাব খাটিয়ে নিবন্ধন গ্রহণ এবং বিলাসবহুল জীবনযাপনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলোকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন “প্রেরণা নারী উন্নয়ন সংস্থা”র নির্বাহী পরিচালক শম্পা গোস্বামী। তিনি একই সঙ্গে কালীগঞ্জ উপজেলার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমপিওভুক্ত সিনিয়র সহকারী শিক্ষক হিসেবেও কর্মরত রয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের নাগরিক পরিচয় বহাল রেখেই ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার গোবরডাঙ্গা এলাকায় ঠিকানা ব্যবহার করে আধার কার্ড, প্যান কার্ড ও ভোটার পরিচয়পত্র গ্রহণ করেছেন তিনি। এছাড়া বসিরহাট এলাকায় জমি ক্রয়, বাড়ি নির্মাণ, ব্যাংক হিসাব ও পোস্ট অফিসে দীর্ঘমেয়াদি আমানত রাখার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে বিষয়টি নাগরিকত্ব আইন, সরকারি চাকরি এবং এনজিও পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুতর আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর নিবন্ধন গ্রহণ করা হয়। স্থানীয় কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর প্রতিবেদন স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় নয়, প্রভাব খাটিয়ে দ্রুত নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্ক ব্যবহার করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, মামলা ও হয়রানির অভিযোগও করেছেন একাধিক ব্যক্তি।
প্রেরণা নারী উন্নয়ন সংস্থার মাধ্যমে সাতক্ষীরা ও খুলনার বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত একাধিক প্রকল্প নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কাগজে-কলমে প্রকল্প বাস্তবায়ন দেখিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ উত্তোলন করা হলেও বাস্তবে কাজের পরিমাণ খুবই কম। কোনো কোনো প্রকল্পে কাজ না করেই বিল-ভাউচার দেখিয়ে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে।
সূত্রগুলো আরও জানায়, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, জনপ্রতিনিধি ও অনুদান প্রকল্প থেকে অর্থ গ্রহণ করলেও তার সঠিক ব্যবহার নিয়ে রয়েছে বিস্তর প্রশ্ন। স্থানীয়দের ভাষ্য, “মাঠে কাজের বাস্তবতা খুব কম, কিন্তু কাগজে দেখানো হয়েছে বড় বড় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড।”
এদিকে শ্যামনগরে জমি ক্রয়, ভরাট, ভবন নির্মাণ ও ব্যয়বহুল স্থাপনা তৈরিতে বিপুল অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি ঢাকায় উচ্চমূল্যের বাসাভাড়া, সন্তানদের ব্যয়বহুল শিক্ষাজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনযাপন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, ঘোষিত আয়ের সঙ্গে এসব ব্যয়ের কোনো সামঞ্জস্য নেই।
শুধু আর্থিক অনিয়ম নয়, ব্যক্তিগত আচরণ ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়েও এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি। যদিও এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই সম্ভব হয়নি।স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগগুলো দ্রুত নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। একই সঙ্গে প্রকল্পভিত্তিক অর্থ লেনদেন, সম্পদের উৎস এবং নাগরিকত্ব সংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে শম্পা গোস্বামী সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকির অভিযোগও করেছেন সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা।
তবে অভিযোগের বিষয়ে শম্পা গোস্বামীর বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, অভিযোগগুলো সত্য না মিথ্যা—তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। স্থানীয়দের প্রশ্ন, এত গুরুতর অভিযোগ সামনে আসার পরও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়নি কেন।