
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরা জেলা প্রাণীসম্পদ দপ্তরকে ঘিরে ওঠা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ যেন ক্রমেই বহুমাত্রিক রূপ নিচ্ছে। প্রথম ও দ্বিতীয় পর্বে ভ্যাকসিন বাণিজ্য, ওষুধ বিতরণে অনিয়ম এবং প্রশিক্ষণে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ সামনে আসার পর এবার আলোচনায় এসেছে দালালচক্রের সক্রিয়তা, নিয়োগ–বদলি বাণিজ্য এবং মাঠপর্যায়ের সেবায় চরম অব্যবস্থাপনার চিত্র।
খামারি ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, জেলা প্রাণীসম্পদ অফিসের আশপাশে একটি শক্তিশালী দালালচক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। এই দালালদের মাধ্যমে যোগাযোগ করলে ভ্যাকসিন, চিকিৎসা সেবা, প্রশিক্ষণ তালিকাভুক্তি কিংবা প্রকল্প সুবিধা সহজেই মিলছে। বিপরীতে সরাসরি অফিসে এসে আবেদন করলে খামারিদের পড়তে হচ্ছে নানা ভোগান্তিতে।
একাধিক সূত্রের দাবি, মাঠপর্যায়ে কর্মরত কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী এই দালালচক্রের সঙ্গে নীরব সমঝোতায় যুক্ত। ফলে সরকারি সেবাকে কার্যত বাণিজ্যিক পণ্যে রূপান্তর করা হয়েছে। এতে প্রাণিসম্পদ খাতে সরকারের উন্নয়ন উদ্যোগ ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগ রয়েছে, বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা মানা হচ্ছে না। যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতার পরিবর্তে তদবির ও ঘনিষ্ঠতার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। এতে করে অনেক অভিজ্ঞ কর্মকর্তা উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছেন, আর প্রভাবশালীদের পছন্দের ব্যক্তিরা সুবিধা ভোগ করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন,
“দপ্তরের ভেতরে কিছু লোক এতটাই প্রভাবশালী যে তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। বদলি বা শাস্তির ভয় দেখিয়ে অনেককে চুপ থাকতে বাধ্য করা হয়।”
এদিকে মাঠপর্যায়ে পশু চিকিৎসা সেবার মান নিয়েও ক্ষোভ বাড়ছে। সময়মতো ভ্যাকসিন না পাওয়া, চিকিৎসকের অনুপস্থিতি এবং জরুরি সেবায় গাফিলতির কারণে অনেক খামারি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এতে জেলার সামগ্রিক প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন কার্যক্রম প্রশ্নের মুখে পড়েছে।সচেতন নাগরিকদের মতে, বিষয়টি শুধু দপ্তরকেন্দ্রিক অনিয়মের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর প্রভাব পড়ছে খাদ্য নিরাপত্তা, দুধ–মাংস উৎপাদন এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর। তারা দালালচক্র শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা, নিয়োগ ও বদলিতে স্বচ্ছ নীতিমালা বাস্তবায়ন এবং মাঠপর্যায়ের সেবার ওপর কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জেলা প্রাণীসম্পদ দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, ধারাবাহিক এসব অভিযোগের পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কেবল আশ্বাসে সীমাবদ্ধ না থেকে কার্যকর তদন্ত ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেবে। তা না হলে সাতক্ষীরার প্রাণিসম্পদ খাতে অনিয়মের এই জাল আরও বিস্তৃত হবে—এমন আশঙ্কাই করছেন সচেতন মহল।