
তৃতীয় পর্ব-
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিক মালিক বিধানের বিরুদ্ধে ওঠা জাল নোট, মাদক সংশ্লিষ্টতা ও নারী নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে যখন এলাকাজুড়ে তীব্র আলোচনা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে, ঠিক সেই সময়েই নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে একাধিক বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, চলমান তদন্ত ও অভিযোগ থেকে দৃষ্টি ভিন্ন খাতে নিতে পরিকল্পিতভাবে কিছু পত্রপত্রিকা ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে একপেশে ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে—নিজের বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগ আড়াল করতেই এসব তথাকথিত ‘ক্লিন ইমেজ’ তৈরির প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে আরও বিস্ময়কর অভিযোগ উঠেছে, তালা উপজেলার বিএনপির নাম ব্যবহার করে নিজেদের পরিচয় দেওয়া কিছু ব্যক্তি প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে এই অপকর্ম ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। যদিও স্থানীয় বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, দলীয়ভাবে এমন কোনো ব্যক্তিকে বা অপকর্মকে সমর্থন দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
একজন স্থানীয় প্রবীণ রাজনৈতিক কর্মী বলেন,
“অপরাধী যে দলেরই হোক, তাকে দলীয় পরিচয়ের আড়ালে রক্ষা করা হলে তা শুধু আইনের শাসনকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে না, রাজনৈতিক অঙ্গনকেও কলুষিত করে।”
এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে তদন্তকে প্রভাবিত করার পাশাপাশি ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এতে প্রকৃত সত্য উদঘাটন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান,মামলা ও অভিযোগসংক্রান্ত সব বিষয় আমরা গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছি। কোনো পক্ষই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়ানোর বিষয়টিও নজরে রাখা হচ্ছে।”
স্থানীয় নাগরিক সমাজের দাবি, অবিলম্বে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে এবং কোনো রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহল যেন তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।
এলাকাবাসীর স্পষ্ট ভাষ্য—
অপকর্ম ঢাকতে যতই অপচেষ্টা চালানো হোক না কেন, সত্য শেষ পর্যন্ত প্রকাশ পাবেই। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে না