সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খলিশখালী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাশিয়াডাঙ্গা-চোমরখালী কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত চিকিৎসক হাফিজুর রহমানকে ঘিরে সরকারি ওষুধ ব্যবস্থাপনা এবং ব্যক্তিগত ফার্মেসি পরিচালনা নিয়ে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি চিকিৎসক হাফিজুর রহমান ব্যক্তিগতভাবে একটি ফার্মেসি পরিচালনা করছেন। সাতক্ষীরার আঠারো মাইল শোভা শনি বাজার এলাকায় তার একটি ফার্মেসি রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এ কারণে সরকারি দায়িত্ব ও ব্যক্তিগত ব্যবসার মধ্যে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, কমিউনিটি ক্লিনিকে সরকারি বরাদ্দকৃত ওষুধের ব্যবহার ও সংরক্ষণ নিয়ে বিভিন্ন সময় প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি ওষুধের সঠিক হিসাব, স্টক রেজিস্টার, রোগীদের মধ্যে বিতরণের তালিকা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের ব্যবস্থাপনা যথাযথভাবে হচ্ছে কি না—এসব বিষয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত একজন চিকিৎসক ব্যক্তিগতভাবে ফার্মেসি পরিচালনা করতে পারেন কি না এবং ওই ফার্মেসির সঙ্গে তার সরকারি দায়িত্বের কোনো স্বার্থের সংঘাত রয়েছে কি না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগের বিধিমালা ও অনুমোদনের বিষয়টিও যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।এদিকে অভিযোগকারীদের কেউ কেউ দাবি করছেন, সরকারি ওষুধ নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর বিষয়টি তদন্তের পরিবর্তে অভিযোগকারীদের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং মূল অভিযোগকে আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এ অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে হলে কাশিয়াডাঙ্গা-চোমরখালী কমিউনিটি ক্লিনিকের সরকারি ওষুধের স্টক রেজিস্টার, সরবরাহের কাগজপত্র, বিতরণ তালিকা এবং সংশ্লিষ্ট ফার্মেসির বৈধ কাগজপত্র পর্যালোচনা করা দরকার। পাশাপাশি চিকিৎসক হাফিজুর রহমানের বক্তব্য নেওয়াও জরুরি।
সরকারি ওষুধ কোনোভাবেই ব্যক্তিগত ব্যবসায় ব্যবহৃত হচ্ছে কি না—এমন অভিযোগ সত্য হলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের আওতায় আসা উচিত। একই সঙ্গে অভিযোগ মিথ্যা হলে তদন্তের মাধ্যমেই তা পরিষ্কার হওয়া সম্ভব।
এ বিষয়ে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং সাতক্ষীরা জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।