
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি সম্পদের অপব্যবহার ও একের পর এক অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গভীর রাতে তালা সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে রশি বেঁধে একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন অ্যাম্বুলেন্স টেনে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছেন এলাকাবাসী। বিষয়টি নিয়ে জনমনে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।অভিযোগ রয়েছে, ওই ব্যক্তিমালিকানাধীন অ্যাম্বুলেন্সটি হাসপাতালের এক চিকিৎসকের নিয়ন্ত্রণাধীন। সরকারি অ্যাম্বুলেন্সকে এভাবে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ অনৈতিক এবং সরকারি নীতিমালার পরিপন্থী বলে মনে করছেন সচেতন মহল।এছাড়াও স্থানীয়দের দাবি, তালা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অনেক চিকিৎসক একক প্রভাবশালী এক চিকিৎসকের কাছে যেন জিম্মি হয়ে পড়েছেন। যার কারণে হাসপাতালের সার্বিক সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং একের পর এক অনিয়ম ঘটেই চলেছে।বিশেষ করে অভিযোগ উঠেছে, চিকিৎসক খালিদ হোসেন নয়ন তার ব্যক্তিগত অ্যাম্বুলেন্স সরকারি গাড়ির মাধ্যমে টেনে নেওয়ার ঘটনাটি এই অনিয়মের একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি হাসপাতালটিকে যেন নিজের ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে ব্যবহার করছেন—যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও অনভিপ্রেত।স্থানীয়দের অভিযোগ, একের পর এক দুর্নীতি ও অনিয়মের ঘটনা সামনে এলেও তার কর্মকাণ্ড থেমে নেই। এর আগেও একাধিকবার তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে, কিন্তু রহস্যজনক কারণে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছেন বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।এদিকে অনেকেই দাবি করছেন, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়া—বিশেষ করে তালা-কলারোয়া আসনের সংসদ সদস্যের প্রভাব—এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।অথচ এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই—যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, দায়িত্বপ্রাপ্ত মহলের এমন নীরবতা প্রশ্নবিদ্ধ এবং অনিয়মকে পরোক্ষভাবে প্রশ্রয় দিচ্ছে।এ প্রেক্ষিতে সাতক্ষীরার সিভিল সার্জনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা জানতে চান—তালা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চলমান এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে এখনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না কেন?