
সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধিঃ জমি খারিজ করে দেয়ার কথা বলে এক সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে নিচ্ছেন পাঁচ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ। আর যিনি টাকা নিচ্ছেন তিনি সাতক্ষীরা জেলা তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা থানার ভূমি অফিসের প্রসেস সার্ভার অমাল বাবু। সম্প্রতি এমন লেনদেনের কিছু ছবি ধারণ করেছেন দৈনিক সোনার বাংলাদেশ পত্রিকার প্রতিবেদক।
শুধু এই একটি অভিযোগই নয়, এ ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রয়েছে অঢেল ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ।সেবাপ্রার্থীরা জানান, সহকারী কমিশনার ভূমি আল মামুনের যোগদানের পর থেকেই ভূমি অফিসে তার আধিপত্য বিস্তার করে আসছেন। চাহিদামতো ঘুষ না দিলে মেলে না কাঙ্ক্ষিত সেবা। আবার কেউ টাকা দিতে না চাইলে শুরু করেন নানা তালবাহনা। সেবা গ্রহীতাদের ভূমি অফিসের বারান্দায় ঘুরতে হয় দিনের পর দিন। অফিশিয়াল কাজ নোটিশ জারি ও ভূমি জরিপ হলেও অনেক সেবাগ্রহীতারা বাধ্য হন তার মাধ্যমে খাজনা-খারিজসহ অন্যান্য কাজ করতে।তালা উপজেলার নাম না বলেন, ‘প্রসেস সার্ভার অমাল বাবু, আমার জমি খারিজ করে দেয়ার কথা বলে আমার কাছে থেকে ১০ হাজার টাকা নেয়। তারপর দিনের পর দিন আমাকে ঘুরাতে থাকে। আমার জমি খারিজ হয়েছে কিনা জানতে চাইলে আমাকেই গরম দেখায় ফোন বন্ধ করে রাখে তাছাড়া অমাল বাবু আমাকে জানান মোটা অংকের টাকা লাগবে এটা স্যারকে দিতে হবে না দিলে কাজ একটু লেট হবে। এভাবেই আমাকে দিনের পর দিন ঘুরতে হচ্ছে।’ভূমি অফিসে গিয়ে কথা হয় সেবাগ্রহীদের সঙ্গে।তারা বলেন, ‘আমরা এখানে এসেছি জমির কাজ নিয়ে। কিন্তু এখন বলে, এখন হবে না পরে এসো। তার পর এখানে আরেক কর্মকর্তাকে বললাম, তিনিও কোনো কাজ করে দেয়নি। এ ভূমি অফিসে প্রতিটি কাজের জন্যই অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়। টাকা না দিলে কোনো সেবা মেলে না। নইলে ঘুরতে হবে দিন, মাস, এমনকি বছর।’ভূমি অফিসে সেবা নিতে যাওয়া আরক অসহায় বলেন, ‘উপজেলা অফিস, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস এবং ভূমি অফিসগুলো কবরের পাশে করা উচিত। যাতে করে এসব দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঘুষ নেয়া এবং সাধারণ মানুষদের হয়রানি করার আগে মৃত্যুর কথা স্মরণ করতে পারে। যখন আমার মতো অসহায় লোকের কাছেও ঘুষ দাবি ও হয়রানি করা হয়। তখন সাধারণ মানুষ তো আরও নিরুপায় নাই
তিনি বলেন, প্রশাসনের উচিত এদের বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
কিছুদিন আগে তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা সহকারী কমিশনার ভূমি দায়িত্ব পান আলমামুন তার পর থেকেই নিজেকে প্রভাবশালী মনে করেন নিজেকে। আমরা অসহায় লোক তার কাছে সেবা নিতে গেলে অতিরিক্ত টাকা ছাড়া কোনো কাজই করেন না। প্রতিটি কাজেই ঘুষ নেন তিনি।তারা আরও জানান, নিরুপায় হয়ে চাহিদামতো টাকা দিয়েই কাজ করে নিতে হয়। প্রতিবাদ করলে নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হয় তাদের।এ সময় স্থানীয়রা তাদের নাম প্রকাশ না করতে অনুরোধ জানান।
অভিযোগের বিষয়ে আলমামুন কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার নাম ব্যবহার করে অনেকেই এই কাজ গুলো করছে তাদের বিরুদ্ধে সত্যতা পেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
প্রসেস সার্ভার অমাল বাবু কাছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন