
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
অনিয়ম, দুর্নীতি আর ঘুষ কেলেঙ্কারিরতে সাতক্ষীরায় আলোচনায় উঠে এসেছে একজন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার নাম নায়েব শর্মিঁষ্ঠা সরকার। তাকে অনেকেই চেনেন মাক্স লেডি হিসাবে। সবসময় মুখে মাক্স পড়ে নিয়ন্ত্রণ করেন তার কর্মস্থলের ভূমি জগতের ঘুষ সিন্ডিকেট। ঘুষেরর টাকা না পেলে কোন সেবাই দেন না বরং হয়রানি পোহাতে হয় সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের। ঘুষের চেয়ার টিকিয়ে রাখতে পরোকীয়া প্রেমে জড়িয়েছিলেন একাধিক পুরুষের সাথে। একদিকে উদ্ধর্তন কর্মকর্তাদের সাথে গভীর ঘনিষ্ঠতা অপরদিকে এক গণমাধ্যম কর্মীর সাথে অবাধ মেলামেশা। নিজের চেয়ার টিকিয়ে রাখতে সব কিছু করতে পারেন এই ভূমি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা। ঘুষ ও অনৈতিক কর্মকান্ডের কারণে সাতক্ষীরা সদর থেকে ফিংড়ী ভূমি অফিসে বদলি হয়েও থেমে নেই তার ঘুষ বাণিজ্য। সম্প্রতি তার ঘুষ আর প্রেম কাহিনী নিয়ে একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে যেটা জেলা জুড়ে হইচই পড়ে গেছে। এক গণমাধ্যম কর্মীর সাথে ভূমি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সরকারের প্রেমের কলরেকর্ড,আপত্তিকর ফেসবুক হোয়াইটস অ্যাপে চ্যাটিং ফাঁস হলে সেটা নিয়ে চলছে তীব্র আলোচনা সমালোচনা। কলরের্কডে নায়েব শর্মিষ্ঠা বলছে আমাকে ছেড়ে গেলে আমি আত্মাহত্যা করব। আমি মরে যেয়ে প্রতিশোধ নেব। ভালবাসার সব রকম অত্যাচার আমি সইব তবুও তুমি আমারই থাকো। তার এই কথাপোকথনে প্রেমের ফাঁদে পড়ে ওই গণমাধ্যম কর্মী । প্রেমের ফাঁদে ফেলে ওই গণমাধ্যম কর্মীকে তার স্বার্থ হাসিলে ঘুষ কেলেঙ্কারি নিউজ বন্ধে অনৈতিক ভাবে দিনের পর দিন ব্যবহার করেছে। উদ্ধর্তন কর্মকর্তা আর গণমাধ্যম কর্মী ছাড়া তার অতীত জীবনে এক কলেজ শিক্ষক ও তার কলিগ নায়েব ইউনুস চিশতীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল যাহার সত্যতা পাওয়া গেছে অনুসন্ধানে। ২০২৪ সালের ৫ ই আগষ্ট পর টাকার বিনিময়ে যোগসাজশে নারী হয়েও অপর এক নারী প্রেরণা এনজিওর নির্বাহী কর্মকর্তা শম্পা গোস্বামীর ওপর মব ভায়েলান্স সৃষ্টি করেছে দাবি করেছে ওই এনজি কর্মকর্তা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, তার পূর্বের কর্মস্থল কালিগঞ্জের ভাড়াশিমলা, বসন্তপুর ভূমি অফিসে থাকা কালীন সরকারি তফসিল ভুক্ত জমি নামজারি কারার জন্য লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। নামাজরি,খাজনা দাখিলা,রিপোর্ট প্রদানে ছিল তার দালাল সিন্ডিকেট। সদর ভূমি অফিসে থাকাকালীন তার দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নামজারিতে ৬-৭ হাজার, রিপোর্ট প্রদানে ২-৫ হাজার টাকা নিত। ঝামেলা পূর্ণ জমিতে হাতিয়ে নিত লাখ টাকা। ঘুষের টাকায় কালিগঞ্জে প্রায় কোটি টাকা মূল্যর জমি ৪ কাাটা ক্রয়, কয়েক বিঘা কৃষি জমি ক্রয় করেছে। ভারতের বশিরহাটে তার ছোট বোন সমাপ্তি সরকারের নামে বাড়ি ক্রয়ের অভিযোগ রয়েছে। তাছাড়া প্রায় ব্যাংকে লক্ষ লক্ষ টাজা ডিপোজিট সহ স্বর্ণ অলংকার রয়েছে।
তার বেতন ৩৫ হাজার হলেও, দুটি বাসা ভাড়া, পার্লার খরচ, মায়ের সংসারে টাকা প্রদান, সন্তানকে উন্নত কলেজে লেখাপড়ায় সাংসারিক ব্যায় লাখ টাকার উপরে। রির্জাভ গাড়িতে খুলনা কালিগঞ্জ চলাফেলা সহ করেন রাজকীয় জীবন যাপন। সবকিছু সম্ভব হয়েছে ঘুষের টাকায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে সদর আদালতে রায়ে জমির নামজারির ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের আখড়াখোলার গীতা রানী আসেন সদর ভূমি অফিসে। তিনি প্রথমে যান সার্ভেয়ার তারেকের কাছে। তারেক পাঠান শর্মিষ্ঠার কাছে। তার নামজারির জন্য শর্মিষ্ঠা প্রথমে ২ লাখ টাকা দাবি করে। পরে মহিলা কান্নাকাটি করলে ১ লাখ টাকা চুক্তিতে নামজারির আশ্বাস দেন নায়েব শর্মিষ্ঠা। আর কথোপকথন ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে। ভুক্তভোগী গীতারানী নায়েব শর্মিষ্ঠার দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবি করেন।
আরেক ভুক্তভোগী শহরের থানাঘাটা গ্রামের ফারুক হোসেন বলেন, নায়েব শর্মিষ্ঠা চরম ঘুষখোর। আমার একটি জমির ১৪৫ ধারা মামলার প্রতিবেদনের জন্য টাকা দাবি করে। আমি টাকা দিতে অস্বীকার জানালে বিরোধীপক্ষ তাহের কাজির কাছে থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে তার পক্ষে প্রতিবেদন দেয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে তিনি সিল্যান্ড অফিসের ঘুষ দুর্নীতির বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনও করেন।
অভিযুক্ত ভূমিসহকারী কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সরকারকে একাধিকবার ফোন দিলেও তার দুটি ফোন নাম্বারে বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায় নি।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কাওছার আজিজ বলেন, নায়েব শর্মিষ্ঠার ঘুষ বাণিজ্যর বিষয়ে খতিয়ে দেখা হবে। তাছড়া তার পরোকীয়া প্রেম বিষয়টি তার ব্যক্তিগত এটা তার স্বামী দেখবে।