নিজস্ব প্রতিবেদক, তালা, সাতক্ষীরা:
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খলিষখালী ইউনিয়নের বাগমারা গ্রামের বাসিন্দা মোঃ মোসলেম মোল্ল্যা। তিনি একজন সাবেক ইউপি সদস্য এবং বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নেতা হিসেবে স্থানীয়ভাবে পরিচিত। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে খলিষখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম আলোচনায় এসেছে। বিএনপির রাজনীতি করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া ও কারাভোগের অভিজ্ঞতা রয়েছে বলে তাঁর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে তাঁর মূল লক্ষ্য দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধ করা, ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করা বলে তাঁর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। জনপ্রতিনিধির দায়িত্বকে ব্যক্তিগত সুবিধা অর্জনের মাধ্যম নয়, বরং জনগণের সেবা করার সুযোগ হিসেবে দেখতে চান তিনি—এমন প্রত্যাশার কথাও সামনে এসেছে।
দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধ করে স্বচ্ছ পরিষদ গড়ার প্রত্যাশা
একটি ইউনিয়ন পরিষদ সাধারণ মানুষের নাগরিক সেবা পাওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। জন্মনিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদ, বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্র, সরকারি সহায়তা এবং অন্যান্য সেবা নিতে গিয়ে যেন মানুষকে অযথা হয়রানি বা অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগের মুখোমুখি হতে না হয়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।
মোঃ মোসলেম মোল্ল্যার প্রস্তাবিত অগ্রাধিকারের মধ্যে থাকবে পরিষদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা, সরকারি বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার এবং উন্নয়নকাজের মান নিশ্চিত করা। কোনো নাগরিক যেন দালালনির্ভরতা, অনিয়ম কিংবা অযৌক্তিক ভোগান্তির কারণে নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্যে কাজ করার প্রত্যয় তাঁর পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
রাস্তাঘাটের উন্নয়ন ও যোগাযোগব্যবস্থায় গুরুত্ব
খলিষখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, ভাঙাচোরা সড়ক সংস্কার, গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখা এবং বর্ষা মৌসুমে চলাচলের দুর্ভোগ কমানো স্থানীয় মানুষের অন্যতম প্রত্যাশা। বিশেষ করে গ্রামের মানুষের যাতায়াত, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাওয়া, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং জরুরি রোগীদের চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছানোর সুবিধা নিশ্চিত করতে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ।
চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে মোঃ মোসলেম মোল্ল্যার কাছে প্রত্যাশা থাকবে, তিনি নির্বাচিত হলে এলাকার প্রয়োজন অনুযায়ী অগ্রাধিকারভিত্তিতে সড়ক সংস্কার ও উন্নয়নের উদ্যোগ নেবেন। পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা উন্নত করা, জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এবং চলাচলের অনুপযোগী সড়কগুলো চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করার মতো বিষয়গুলোও উন্নয়ন পরিকল্পনায় গুরুত্ব পাবে।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানে উন্নয়নের ভাবনা
একটি ইউনিয়নের উন্নয়ন শুধু রাস্তাঘাট নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক নিরাপত্তার উন্নয়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা, অসহায় ও বয়স্ক মানুষের পাশে দাঁড়ানো, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সরকারি সহায়তা পাওয়ার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে উদ্যোগ নেওয়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধির জনকল্যাণমূলক ভূমিকার অংশ হতে পারে।
মোঃ মোসলেম মোল্ল্যার কাছে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা থাকবে, তিনি এসব ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছাতে সহযোগিতা করবেন। একই সঙ্গে কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সমস্যাগুলো শুনে সেগুলো সমাধানে উদ্যোগ নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয়
জনপ্রতিনিধির কাছে মানুষের প্রত্যাশা থাকে, তিনি নির্বাচিত হলে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সব নাগরিকের সেবা করবেন। কে কোন রাজনৈতিক দলের সমর্থক, কে ধনী কিংবা কে দরিদ্র—এসব বিবেচনা না করে সবার জন্য সমানভাবে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা একটি দায়িত্বশীল নেতৃত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।মোঃ মোসলেম মোল্ল্যার জনসেবার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের অভিযোগ শোনা, এলাকার সমস্যা সরেজমিনে দেখা, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং পরিষদের সেবাকে সহজলভ্য করার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
কারাভোগের অভিজ্ঞতা পেরিয়ে নতুন প্রত্যাশা
বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে বিভিন্ন সময়ে নির্যাতন ও কারাভোগের অভিজ্ঞতা হয়েছে বলে মোঃ মোসলেম মোল্ল্যা ও তাঁর সমর্থকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সাবেক ইউপি সদস্য হিসেবে তাঁর অতীত ভূমিকা এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনার বিষয়।
তবে একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করবে জনসম্পৃক্ততা, অতীত কর্মকাণ্ড, স্বচ্ছতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সক্ষমতার ওপর। এলাকার মানুষের প্রত্যাশা, তিনি যদি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পান, তাহলে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন, উন্নয়নকাজে জবাবদিহি নিশ্চিত করবেন এবং সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানে আন্তরিক থাকবেন।
জনসেবাই হোক মূল অঙ্গীকার
খলিষখালী ইউনিয়নের মানুষের প্রত্যাশা—তাঁদের জনপ্রতিনিধি হবেন এমন একজন ব্যক্তি, যিনি মানুষের কথা শুনবেন, উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি বাস্তব কাজের মাধ্যমে তার প্রতিফলন ঘটাবেন এবং নাগরিক সেবায় ভোগান্তি কমাতে ভূমিকা রাখবেন।
মোঃ মোসলেম মোল্ল্যার সামনে তাই বড় চ্যালেঞ্জ হবে দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রতিরোধ, রাস্তাঘাটসহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সরকারি বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার এবং দল-মত নির্বিশেষে সবার আস্থা অর্জন। তাঁর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে খলিষখালী ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন—এমন প্রত্যাশা করছেন তাঁর সমর্থকেরা।
জনগণের প্রত্যাশা একটাই—জনপ্রতিনিধি হবেন সেবক, দুর্নীতির বিরুদ্ধে থাকবেন দৃঢ় এবং উন্নয়নের সুফল পৌঁছাবে সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে।