
এসএম রুবেল চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে।।
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে গত সোমবার (৪ ডিসেম্বর) এক প্রজ্ঞাপনে সারা দেশের ৩৩৮ জন থানার ওসি সহ সেই তালিকায় রয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদরের ওসিদের বদলির তালিকায় রয়েছেন সদর মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ ওসি সাজ্জাদ হোসেন নামও।
এরই ধারাবাহিকতায় ওসি সাজ্জাদ হোসেন বলেন বদলি তো চাকরিরই একটি অংশ। তবে সদরবাসীর মানুষের মন জয় করতে পেরেছি এটাই তো আমার কাছে বড় পাওনা।
তিনি সদরে যোগদানের পর থেকেই শুরু হয় সাড়াশি অভিযান বিশেষ করে কিশোর গ্যাং,মারামারি,খুন,মাদক সন্ত্রাস ভূমি দস্যু বাল্যবিবাহমুক্ত অশান্তির জনপদ হিসেবে সদর থানাকে গড়তে চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করেন তিনি। সদর উপজেলার বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ,মাদক-সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রনে ওসি সাজ্জাদ হোসেনের এর ভূমিকা সর্বস্তরে প্রশংসনীয়। এছাড়াও তিনি সফলতার সাথে বিভিন্ন ডাকাতি,নারী নিযাতন ধর্ষন, ছিনতাই,মোটর সাইকেল চোর,অস্ত্র-মাদক বিরোধি অভিযান চালিয়ে অপরাধীদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হন ওসি।তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে মাদক-সন্ত্রাসের স্বর্গরাজ্য খ্যাত সদর এরিয়া বিভিন্ন এলাকায় এখন আর আগের তুলনায় মাদক-সন্ত্রাস নির্মূলের দ্বারপ্রান্তে। শুধু তাই নয়,তিনি যোগদানের পর থেকে থানা এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অপরাধ কর্মকান্ডও দিন দিন কমতে শুরু করেছে। তার কর্মদক্ষতার মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ নিয়ে তার অধিনস্থ অফিসারদের সর্বদা নির্দেশ দিয়ে থাকেন তারা যেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সেবায় কাজ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) সদরে তিনার শেষ কর্মদিবস ছিল ওসি সাজ্জাদ হোসেনের।সকালে অফিসে আসা মাত্রই থানার চত্বরে তাকে দেখতে ভিড় জমান স্থানীয়রা। বিদায় বেলায় ওসি সাজ্জাদ হোসেনের সামনে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা। তাদের মধ্যে একজন প্রতিবন্ধী,আরেকজন রিক্সা চালক ওসি সাজ্জাদ হোসেনকে,জড়িয়ে ধরে কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে বলেন,‘স্যার আপনি এত তাড়াতাড়ি চলে যাচ্ছেন। আপনার সহযোগিতা পেয়ে এখন তিনবেলা ঠিকমতো খেতে পারছি। আপনি গেলে আমাদের মতো অসহায়দের কে দেখবে’।