
মোহাম্মদ ইমাম হোসেনঃএই ঈদে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী অসহায় এতিমদের সাহায্য হাত বাড়িয়ে দিতে অনুরোধ করেছেন কুমিল্লা ইবনে তাইমিয়া স্কুল এন্ড কলেজের মমতাময়ী সহকারী শিক্ষক ফারজানা আফরিন (ICT) শিক্ষা দানের পাশাপাশি বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে সামাজ কল্যাণ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সরব থাকেন তিনি। কিছুদিন আগে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কর্মকাণ্ডে আলোচনায় আসেন ফারজানা আফরিন । এবার কওমি মাদ্রাসার এতিম অসহায় শিক্ষার্থীদের নিজ বাড়িতে ভালো একটি দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন এই উদার মনের মানুষ মমতাময়ী শিক্ষক ও তার পরিবার।
সম্প্রতি এই ঈদে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী অসহায় এতিমদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়ার জন্য দেশের সকলকেই অনুরোধ জানায় ফারজানা আফরিন। তিনি দেশবাসীকে উদ্দেশ্যে করে সাংবাদিকদের বলেন
রোজার শেষ দিকে বাংলাদেশের কওমি মাদরাসাগুলোতে এক করুণ দৃশ্য দেখা যায়। সাধারণত ২৫ রোজা থেকে মাদরাসাগুলো ছুটি হতে থাকে। বেশিরভাগ ছাত্র ছাত্রীর অভিভাবক এসে বাচ্চাদের বাসায় নিয়ে যায়। কিন্তু একদল বাচ্চাকে কেউ নিতে আসে না। এদের কারও বাবা-মা নেই, কারও বাবা নেই মায়ের অন্যত্র বিয়ে হয়ে গেছে। অনেকের মা নেই, বাবা বাচ্চার খোঁজ রাখে না। খুব বেশি ভাগ্যবান হলে কারও কারও মামা-খালা-চাচা এসে কাউকে কাউকে নিয়ে যায়। বাকীরা সারাদিন কান্না করে।’
‘তারা জানে তাদের কেউ নিতে আসবে না। তারা সারাবছর কাঁদে না। কিন্তু যখন সহপাঠীদের সবাই বাসায় নিয়ে যায় অথচ তাদের কেউ নিতে আসে না তখন তাদের দুঃখ শুরু হয়ে যায়। মৃত মা-বাবার ওপর তাদের অভিমান সৃষ্টি হয়- কেন তারা তাদের দুনিয়ায় রেখে এই বয়সে মারা গেলেন? তারা কি আর কিছুটা দিন বেঁচে থাকতে পারতেন না? মা বাবা বেঁচে নাই তো কী হইছে? মামা চাচারা কেউ তাদেরকে নিতে আসল না কেন? মা বেঁচে থাকতে মামারা কত আদর করত! বাবা বেঁচে থাকতে চাচারা কত আদর করত! এই বয়সেই তারা দুনিয়ার একটা নিষ্ঠুর চেহারা দেখেছে।
দেশের সবাইকে অনুরোধ করে মমতাময়ী শিক্ষক বলেন -এই ঈদে আপনার কাছাকাছি এতিমখানায় যান। কয়জন বাচ্চা ঈদে বাড়ি যায়নি খোঁজ নিন। তাদের জন্য আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী যা পারেন তা নিয়ে যান। এই গরমে তাদের আইসক্রিম খাওয়াতে পারেন। নিদেন পক্ষে একটা চকলেট খাওয়ান। মনে রাখবেন, আজ আপনি বেঁচে না থাকলে আপনার ছোট সন্তান এতিম হয়ে যাবে! আমি ইনশাআল্লাহ চেষ্টা করব যদি আল্লাহ সহায়ক হয়।’
শিক্ষক ফারজানা আফরিনের এমন বক্তব্যেও কর্মকাণ্ডকে এলাকাবাসী ও ভক্তরাও সাধুবাদ জানিয়েছেন। অনেকেই তার সঙ্গে সম্মতি প্রদান করেছেন। কেউ বলেছেন , ‘একটা সত্য তুলে ধরার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।’ কেউ আবার এই কওমী মাদরাসার গুলোর এতিম অসহায় শিক্ষার্থীদের সাহায্য এগিয়ে আসারও আহ্বান জানিয়েছেন।