
আইআরজিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, ইসরাইলকে অবিলম্বে লেবাননের জনগণের ওপর হামলা বন্ধ করতে হবে এবং লেবাননের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমানার ভেতরে দখল করা সব এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে।বৃহস্পতিবার (৪ জুন) জারি করা ওই বিবৃতিতে লেবাননকে সম্মান ও মর্যাদার দেশ হিসেবে উল্লেখ করা হয় এবং বলা হয়, দেশটি এখনও দখলদার ইসরাইলি বাহিনীর নির্মম হামলার মুখে রয়েছে। আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ‘শান্তি প্রতিষ্ঠা’র নামে যেসব হস্তক্ষেপ করছে, তা আসলে আরও বেশি সহিংসতা ও অপরাধ বাড়াচ্ছে।বিবৃতিতে বলা হয়, ‘অক্ষম ও ভীত’ ইসরাইলি বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়ে এখন সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করছে এবং ঘরবাড়ি, হাসপাতাল ও স্কুল ধ্বংস করছে। এছাড়া বলা হয়, দখলকৃত অঞ্চলের কোনো গ্রামও ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের ওপর আস্থা রাখে না এবং তাদের ইতিহাস মূলত ধ্বংস ও ক্ষতির ওপর দাঁড়িয়ে আছে।আইআরজিসি আরও জানায়, এই অঞ্চলের জনগণ লেবাননকে একা ছেড়ে দেবে না এবং লেবাননের মানুষ যুদ্ধের মাধ্যমে যা হয়নি, তা ইসরাইলকে অর্জন করতে দেবে না। বিবৃতিতে বলা হয়, যুদ্ধবিরতি মেনে নেওয়ার ক্ষেত্রে ইরানের মূল শর্ত ছিল সব ফ্রন্টে, বিশেষ করে লেবাননে, পূর্ণ যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা।আইআরজিসি জানায়, লেবাননের জনগণ ইসলামি বিশ্বের গর্ব এবং তারা সব ধরনের উপায়ে তাদের সমর্থন অব্যাহত রাখবে। একই সঙ্গে বলা হয়, দখলকৃত লেবাননি এলাকা থেকে সরে না গেলে এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি আসবে না। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত বুধবার (৩ জুন) ওয়াশিংটনে ত্রিপক্ষীয় এক বৈঠকে শর্তসাপেক্ষে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে সম্মত হয় ইসরাইল ও লেবানন। চুক্তি অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি কার্যকর হওয়া ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর হামলা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হওয়ার ওপর নির্ভর করছে।বিবৃতিতে বলা হয়, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার শর্ত হলো, হিজবুল্লাহকে পুরোপুরি হামলা বন্ধ করতে হবে। সেই সঙ্গে দক্ষিণ লেবানন থেকে গোষ্ঠীটির সদস্যদের সরিয়ে নিতে হবে। এছাড়া দুই দেশ কিছু ‘পাইলট জোন’ প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে একমত হয়েছে। এসব এলাকা লেবানিজ সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং সেখানে কোনো অরাষ্ট্রীয় পক্ষ বা সশস্ত্র গোষ্ঠী থাকতে পারবে না।তবে হিজবুল্লাহ এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে। হিজবুল্লাহ বহুবার বলেছে যে, তারা ইসরাইল-লেবানন যুদ্ধবিরতি আলোচনাকে স্বীকৃতি দেয় না এবং তা মেনে চলবে না। বিশ্লেষকরা বলছেন, খুব সম্ভবত, ইরান-মার্কিন আলোচনার অংশ হিসেবে লেবাননে একটি শর্তহীন যুদ্ধবিরতি না হওয়া পর্যন্ত হিজবুল্লাহ লড়াই চালিয়ে যাবে।ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজরায়েল কাৎজ এই চুক্তিকে ‘বাস্তবিক ও কূটনৈতিক উভয় স্তরেই একটি বিরাট সাফল্য’ বলে অভিহিত করেছেন। সেই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেছেন, যুদ্ধবিরতি হলেও হিজবুল্লাহ ইসরাইলি জনপদে হামলা করলে ইসরাইলি সেনাবাহিনী লেবাননের রাজধানী বৈরুতে আঘাত হানবে।পাল্টা হুঁশিয়ারি দেয় ইরান। গত বুধবার (৩ জুন) লেবাননভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-মায়াদিনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, লেবাননের বৈরুতের ওপর হামলার মুখে তারা ‘চুপ থাকবে না’। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বৈরুতের ওপর যেকোনো হামলা পুরো অঞ্চলে নতুন করে সংঘাত উসকে দিতে পারে এবং ফের ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’ শুরু হতে পারে।