১৭ বছরের আওয়ামী লীগ শাসনামলে প্রকল্পের অর্থ ও সম্পদ নিয়ে নানা প্রশ্ন, তদন্তের দাবি
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তফা লুৎফুল্লাহকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও সম্পদ অর্জনের অভিযোগ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ ১৭ বছরের শাসনামলে তিনি দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নৌকা প্রতীকে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময়ে এলাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ, বাস্তবায়ন ও অর্থ ব্যয় নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।অভিযোগ রয়েছে, সংসদ সদস্য থাকাকালে তালা ও কলারোয়া উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে সরকারি বরাদ্দের অর্থ ব্যবস্থাপনা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে। কোথাও প্রকল্পের কাজের মান, কোথাও বরাদ্দের অর্থের ব্যবহার এবং কোথাও প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
নামে-বেনামে সম্পদ অর্জনের অভিযোগসাবেক এই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্বে থাকার সময়ে তাঁর নিজের পাশাপাশি স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের নামেও বিভিন্ন স্থানে জমি, বাড়ি ও ফ্ল্যাটসহ সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে। এসব সম্পদের প্রকৃত উৎস কী এবং তা বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না—তা যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।স্থানীয়দের প্রশ্ন, একজন জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব পালনকালে তাঁর আয়, সম্পদ বৃদ্ধি এবং পরিবারের সদস্যদের নামে অর্জিত সম্পদের মধ্যে কোনো অসঙ্গতি রয়েছে কি না, সেটি সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি যাচাইয়ের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
প্রকল্পের টাকা কোথায় গেল—উঠছে প্রশ্নতালা ও কলারোয়ার বিভিন্ন সময়ে নেওয়া উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বরাদ্দ, টেন্ডার প্রক্রিয়া, কাজের পরিমাণ, বিল-ভাউচার এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের বাস্তব চিত্র খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
অভিযোগকারীদের বক্তব্য, দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অনেক অভিযোগ সামনে এলেও সেগুলোর যথাযথ অনুসন্ধান হয়নি। ফলে প্রকল্পভিত্তিক অর্থের হিসাব ও সম্পদ অর্জনের অভিযোগগুলো নতুন করে তদন্তের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।‘ধরাছোঁয়ার বাইরে’—তদন্ত না হওয়া নিয়ে প্রশ্নদীর্ঘ সময় রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার বলয়ে থাকার কারণে এসব অভিযোগের যথাযথ তদন্ত হয়নি—এমন অভিযোগও রয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। বর্তমানে রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের পরও যদি পুরোনো অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত না হয়, তাহলে সরকারি অর্থের প্রকৃত হিসাব ও সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে বলে মনে করছেন অনেকে।
তবে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে অনুমান নয়, প্রয়োজন সরকারি নথি, প্রকল্পের হিসাব, সম্পদের দলিল ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য। তাই সাবেক এমপি মোস্তফা লুৎফুল্লাহ ও তাঁর পরিবারের নামে থাকা সম্পদের তথ্য এবং তাঁর দায়িত্ব পালনকালে বাস্তবায়িত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের নথিপত্র যাচাই করে প্রকৃত তথ্য বের করার দাবি উঠেছে।
পরের পর্বে কী থাকছে\এই অনুসন্ধানের পরবর্তী পর্বে তালা-কলারোয়ার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ ও ব্যয়ের তথ্য, জমি-ফ্ল্যাটের মালিকানা, সম্পদের উৎস এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র নিয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান তুলে ধরার চেষ্টা করা হবে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সাবেক এমপি মোস্তফা লুৎফুল্লাহর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।
চলবে…