
নিজস্ব প্রতিনিধি ঢাকা:
ইউপি সচিবদের বদলি-বাণিজ্য ও পদায়ন সিন্ডিকেট নিয়ে অনুসন্ধানের তৃতীয় পর্বে উঠে এসেছে আরও বিস্ফোরক তথ্য। অভিযোগ রয়েছে, শুধু ইউনিয়ন পরিষদ নয়—জেলা প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা, দালালচক্র ও রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক, যারা দীর্ঘদিন ধরে বদলি ও পদায়নকে কেন্দ্র করে কোটি কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্য পরিচালনা করেছে।একাধিক সূত্রের দাবি, তেতুলঝোড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সচিব মীর আব্দুল বারেক ছিলেন এই সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি। সংগঠনের সভাপতির ক্ষমতা ব্যবহার করে তিনি বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর প্রভাব বিস্তার করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
“পদায়নের জন্য নির্ধারিত ছিল টাকার রেট”
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, কোন ইউনিয়নে পোস্টিং হবে, কোন এলাকায় দায়িত্ব দেওয়া হবে কিংবা কাকে সুবিধাজনক স্থানে রাখা হবে—এসবের জন্য ছিল নির্দিষ্ট আর্থিক লেনদেন।
একাধিক সূত্রের ভাষ্য—
গুরুত্বপূর্ণ ও “লাভজনক” ইউনিয়নে পদায়নের জন্য কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হতো।
বদলি আটকে রাখা কিংবা বাতিল করতেও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।
জেলা প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা ও অফিস সহকারীর মাধ্যমেই এসব যোগাযোগ সম্পন্ন হতো বলে অভিযোগ উঠেছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি।
“রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার”
স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেই দীর্ঘদিন প্রভাব ধরে রাখেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক নেতাদের নাম ব্যবহার করে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রশাসনিক চাপ প্রয়োগের ঘটনাও ঘটেছে।
একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললে তাকে বদলি, হয়রানি কিংবা প্রশাসনিক জটিলতার মধ্যে ফেলা হতো।
“সম্পদের পাহাড়”
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, কয়েকজন ইউপি সচিব ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে হঠাৎ বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে—
রাজধানী ঢাকায় ফ্ল্যাট,
বিভিন্ন এলাকায় জমি ক্রয়,
বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহার,
ব্যাংকে অস্বাভাবিক লেনদেন
এসব নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “সরকারি চাকরির বেতনে এত সম্পদ করা সম্ভব কি না—এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।”
“দালালচক্রের সক্রিয় ভূমিকা”
সূত্র বলছে, এই নেটওয়ার্কে কিছু কথিত দালাল ও মধ্যস্থতাকারী নিয়মিত কাজ করতেন। তাদের মাধ্যমে গোপনে আর্থিক চুক্তি সম্পন্ন হতো।
অভিযোগ রয়েছে, বদলি বা পদায়নের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার পর অনেক ক্ষেত্রেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয়নি। এতে একাধিক ব্যক্তি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলেও দাবি উঠেছে।তদন্ত দাবি আরও জোরালো
সুশীল সমাজ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ভুক্তভোগীরা এখন পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি তুলেছেন। তাদের মতে—
সংশ্লিষ্টদের ব্যাংক হিসাব,
আয়কর নথি,
সম্পদের বিবরণী,
মোবাইল কল রেকর্ড,
বদলি আদেশ ও প্রশাসনিক ফাইল
তদন্ত করা হলে পুরো সিন্ডিকেটের বাস্তব চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), স্থানীয় সরকার বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
পরবর্তী পর্বে থাকছে—
সিন্ডিকেটে কারা ছিলেন মূল সমন্বয়ক
কথিত আর্থিক লেনদেনের পদ্ধতি
জেলা প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তার নাম
ভুক্তভোগীদের সরাসরি সাক্ষাৎকার
অডিও/ডকুমেন্ট ঘিরে নতুন তথ্য
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও পাল্টা দাবি
চলবে…